
উত্তরপ্রদেশে গরিব পরিবারগুলোর কাছে মেয়ের বিয়ে দেওয়াটা বরাবরই একটা বিরাট চিন্তার বিষয়। বছরের পর বছর ধরে অনেক পরিবারকে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে ধার নিতে হতো বা সামাজিক চাপের মধ্যে থাকতে হতো। কিন্তু এখন 'মুখ্যমন্ত্রী সামুহিক বিবাহ যোজনা' হাজার হাজার দুঃস্থ পরিবারের কাছে স্বস্তি আর সম্মানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যোগী সরকারের এই প্রকল্পের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলির মধ্যে এই প্রকল্পের ওপর ভরসা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৫২,১৩৪টি জুটির বিয়ে এই প্রকল্পের অধীনে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি এবং সমান সুযোগের একটি শক্তিশালী বার্তাও দিচ্ছে।
রাজ্য সরকারের চালু করা 'মুখ্যমন্ত্রী সামুহিক বিবাহ যোজনা'-র মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে মেয়ের বিয়েতে সাহায্য করা। সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকদের মতে, আগে গরিব পরিবারগুলিকে বিয়ের জন্য ঋণ নিতে হত অথবা বছরের পর বছর ধরে টাকা জমাতে হত। এখন সরকার আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি নতুন সংসার পাতার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও দিচ্ছে। এর ফলে নবদম্পতিদের নতুন জীবন শুরু করতে সুবিধা হচ্ছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্য পরিবারগুলির কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোট ৫২,১৩৪টি জুটির বিয়ে এই প্রকল্পে সম্পন্ন হয়েছে। বছর অনুযায়ী পরিসংখ্যানটা এইরকম:
এই পরিসংখ্যানকে সরকার তাদের সামাজিক কল্যাণ নীতির সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরছে।
'মুখ্যমন্ত্রী সামুহিক বিবাহ যোজনা'-কে শুধু একটি সরকারি সাহায্য প্রকল্প হিসেবে নয়, সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জুটির একসঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, যা সমাজে সাম্যের বার্তা দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের আয়োজন সামাজিক দূরত্ব কমাতে এবং দুর্বল শ্রেণির মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
এই প্রকল্পের অধীনে সরকার নবদম্পতিদের আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও দেয়। এর ফলে গরিব পরিবারগুলিকে বিয়ের পরেই আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয় না। অনেক পরিবারই জানিয়েছে, মেয়ের সম্মানজনক বিয়ের জন্য এটি একটি বিরাট স্বস্তির কারণ। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই এই প্রকল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
যোগী সরকার বরাবরই এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, রাজ্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ভিত্তি জাতি বা ধর্ম নয়, বরং যোগ্যতা এবং প্রয়োজন। সরকারের বক্তব্য, "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ" মডেল তখনই সফল হবে যখন সমাজের প্রতিটি শ্রেণি প্রকল্পের সমান সুবিধা পাবে। সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সরকার প্রতিটি শ্রেণির উন্নতি এবং সামাজিক ভারসাম্য শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে, যেখানে লক্ষ লক্ষ পরিবার আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে, সেখানে এই ধরনের প্রকল্পগুলি সরাসরি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক স্তরে প্রভাব ফেলে। যদি স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এই প্রকল্পগুলি চলতে থাকে, তবে গরিব পরিবারগুলির বিয়ের চিন্তা অনেকটাই কমে যেতে পারে। 'মুখ্যমন্ত্রী সামুহিক বিবাহ যোজনা' এখন আর শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং সেই সব পরিবারের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে যারা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের বিয়ে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত।