
টেকনোলজির এই দ্রুত বদলের যুগে কোনটা সম্ভব, শুধু সেই প্রশ্নই বড় নয়। কোনটা করা উচিত, সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬'-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর জন্য তাঁর 'M.A.N.A.V.' (মানবকেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ) ভিশনের কথা বললেন, তখন একটা বার্তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল—ভারত শুধু AI ব্যবহার করতে চায় না, তাকে সঠিক দিশাও দেখাতে চায়।
এই মঞ্চ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁর রাজ্য পদক্ষেপ করছে। তাঁর কথায়, AI শুধু প্রযুক্তিগত উন্নতির হাতিয়ার নয়, বরং নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দায়বদ্ধ উদ্ভাবনের একটি মাধ্যম।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন যে লখনউতে দেশের প্রথম AI সিটি তৈরি করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বমানের উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং উন্নত প্রযুক্তি গবেষণাকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই AI সিটি মডেল সফল হলে, এটি শুধু বড় বিনিয়োগই টানবে না, বরং ডেটা, সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিপ-টেক স্টার্টআপের জন্য উত্তরপ্রদেশকে একটি জাতীয় হাবে পরিণত করতে পারে।
রাজ্য সরকার উন্নাওতে দেশের প্রথম AI-চালিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা বহুবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় চালু করেছে। এর লক্ষ্য হল ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। এমন ছাত্রছাত্রী তৈরি করা, যারা শুধু প্রযুক্তির গ্রাহক হবে না, বরং তার নির্মাতা এবং নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে। 'AI প্রজ্ঞা' উদ্যোগের মাধ্যমে দশ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এত বড় আকারে প্রশিক্ষণই AI বিপ্লবকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে জুড়তে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে AI-ভিত্তিক সমাধানগুলি রাজ্যের দশ লক্ষেরও বেশি কৃষক পরিবারের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করছে। যেমন, ফসলের পূর্বাভাস, মাটির গুণমান বিশ্লেষণ এবং আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ—এইসব টুল কৃষকদের আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। এর পাশাপাশি, রাজস্ব পরিচালনা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং স্মার্ট গভর্নেন্সেও AI-এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে কাজ আরও দ্রুত, দায়বদ্ধ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।
ভারত মণ্ডপমের এই সামিটের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং এমন একটি AI ব্যবস্থা তৈরি করা যা মানবতার স্বার্থে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর পেশ করা MANAV ভিশন জোর দেয় যে AI-এর বিকাশ গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নৈতিক হওয়া উচিত, যাতে প্রযুক্তি ভয়ের কারণ না হয়ে সুযোগ তৈরি করে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাবি, তারা এই ভিশনকে বাস্তবায়িত করতে একটি সুরক্ষিত, সার্বভৌম এবং পরিমাপযোগ্য (scalable) AI পরিকাঠামো তৈরিতে কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে।
প্রযুক্তির এই নতুন দৌড়ে উত্তরপ্রদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা কেবল দর্শক নয়, একজন সক্রিয় খেলোয়াড় হতে চায়। যদি ঘোষিত প্রকল্পগুলি সময়মতো এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এই উদ্যোগ রাজ্যকে দেশের AI ইকোসিস্টেমে একটি অগ্রণী ভূমিকায় পৌঁছে দিতে পারে।