Digital Advertising Growth in India: ডিজিটাল দুনিয়ায় ভারত যেন ক্রমশই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে (digital advertising market)। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বপ্নের প্রোজেক্ট ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া' এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। এই মুহূর্তে দেশের প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক মানুষ ডিজিটাল দুনিয়ায় রোজ সময় কাটাচ্ছেন (digital advertising market in india)।
সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন শপিং, এন্টারটেইনমেন্ট, অনলাইন পেমেন্ট, ফুড ডেলিভারি, খবরাখবর, তথ্য সংগ্রহ, ওটিটি এবং গেমিং সহ একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের। শুধু আপনার কাছে একটা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার থাকলেই হবে। সঙ্গে দরকার শুধু ইন্টারনেট কানেকশন বা ডেটার। আর এখন বেশিরভাগ মানুষের হাতেই স্মার্টফোন। তাই যতই সময় এগোচ্ছে, ততই যেন ভারতবর্ষের ডিজিটাল বিপ্লব দৃঢ়ভাবে সূপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
গ্রাহকদের প্রতিদিন নিত্যনতুন ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। আর সেইসঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে, মিডিয়া থেকে শুরু করে যে কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বিজ্ঞাপনের চাহিদা। কারণ, মানুষ অনেক বেশি সময় তাঁর স্মার্টফোনে দিচ্ছেন। ফলে, বাড়ছে স্ক্রিনটাইম। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনের সেরা জায়গা হিসেবে উঠে আসছে ডিজিটাল মাধ্যম।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ অ্যামাজন থেকে শপিং করছেন। সেই মুহূর্তে তাঁর সামনে ভেসে উঠল আরও দুটি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন। আবার ধরা যাক, আপনি কোনও একটি নিউজ ওয়েবসাইট থেকে খবর পড়ছেন, তখন আপনার সামনে ভেসে এল কোনও একটি বিজ্ঞাপন। অনেকে যখন কোনও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখেন, তখন সেই খেলার মাঝেও যে বিজ্ঞাপন আসে, তার জন্যও একাধিক ব্র্যান্ড রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। অর্থাৎ, বিজনেস জেনারেট মডিউলের ক্ষেত্রে বড় সুযোগ।
দেশের সরকারও তাই যথেষ্ট উদ্যোগী এই ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া' মুভমেন্টের বিষয়ে। প্রসঙ্গত, গত ২০২৫ সালের মধ্যেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিজ্ঞাপনের সামগ্রিক বৃদ্ধি ছিল রেকর্ড করার মতো। একাধিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অনলাইন বিজ্ঞাপন এই মুহূর্তে দেশের সামগ্রিক বিজ্ঞাপন ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক।
এই কথা বাস্তব যে, টেলিভিশন ভিউয়ারশিপ আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। বিশেষ কিছু ইভেন্ট কেন্দ্রিক ভিউয়ারশিপ এখনও আছে। এমনকি, এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেলও ভিউয়ারশিপ ধরে রাখার বিষয়ে অনেকক্ষেত্রে সফল। তবে নাম্বার কম। তাই বর্তমানে চ্যানেলগুলিও তাদের কনটেন্ট মোবাইল অ্যাপে স্ট্রিমিং করাচ্ছে। তাই বহুক্ষেত্রে ব্রডকাস্টিং রাইটসের সঙ্গে তারা ডিজিটাল রাইটসও কিনছে।
এক্ষেত্রেও বিজ্ঞাপনের তারতম্য দেখা যাচ্ছে। কিছু প্রিন্ট মিডিয়া এখনও বাজার ধরে রেখেছে। তবে তার তুলনায় ঢের এগিয়ে তাদের ডিজিটাল মাধ্যমগুলি। বিজ্ঞাপনদাতারা তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে অনেকটা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, একাধিক ব্র্যান্ড তাদের বিজ্ঞাপনের পিছনে যে অর্থ ব্যয় করে থাকে, তার মধ্যে গড়ে ৫৫-৬০% ডিজিটাল মাধ্যমেই বরাদ্দ করে থাকে। যা পাঁচ বছর আগে ছিল মাত্র ৩০%। কেন এই বিপুল বৃদ্ধি? এখানে আরও একটা বিষয় কাজ করছে। বর্তমানে, কেবল টিভি বা সেট-টপ বক্সের তুলনায় অনেক বাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে কানেকটেড টিভি। শুধু দরকার ইন্টারনেট। সার্ভিস প্রোভাইডারদের প্যাকেজ অনুযায়ী, তার নধ্যে ওটিটি-র সুবিধাও থাকছে। তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি সেইদিকে ঝুঁকছে। ফলে, এটাও বিজ্ঞাপন বৃদ্ধির আরেকটা কারণ।
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে ইউজার ফ্রেন্ডলি শপিং অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। অতএব, ক্লোজড-লুপ বিজ্ঞাপন এবং পপ আপ বিজ্ঞাপনে অনেক বেশি বিনিয়োগ আসছে। বিশেষ করে এফএমসিজি, ইলেকট্রনিক্স এবং লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলি এই বিনিয়োগে সবথেকে বেশি এগিয়ে।
অন্যদিকে, ওটিটি সেক্টরও এই মুহূর্তে মিডিয়া এবং এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম একটি মেরুদণ্ডতে পরিণত হয়েছে। নিত্যনতুন কনটেন্ট আগ্রহ বৃদ্ধি করছে ইউজারদের। আসছে কনটেন্ট নানারকমের বদল। আর সেইসঙ্গেই বাড়ছে বিজ্ঞাপন। তাই বলা চলে, কানেকটেড টিভি-ওটিটি এই মুহূর্তে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শুধু তাই নয়, অনলাইন নিউজ বিজনেসও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে খবর মানুষ আগে টিভিতে বসে দেখত, সেই খবর আজ হাতের মুঠোয়। নিজের স্মার্টফোনেই আসছে হেডলাইন, ভিডিও এবং লেখা সব। একাধিক নিউজ হাউজ এই মুহূর্তে ঝুঁকে আছে ডিজিটাল নিউজ-কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, গুগল অ্যানালিটিক্স, সোশ্যাল মিডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আরও একাধিক বিষয়ের উপর।
সবথেকে বড় বিষয়, বিভিন্ন ভাষায় মানুষ তাদের পছন্দের খবরকে পেয়ে যাচ্ছে। তাই বহু ব্র্যান্ড বড় বড় নিউজ হাউজের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিচ্ছেন বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য। কস্ট পার মিনিট (CPM), প্রোগ্রাম্যাটিক এবং পারফরম্যান্স ভিত্তিক অনেকগুলি বিষয় এক্ষেত্রে রয়েছে। তাছাড়া ট্র্যাফিকের দিক দিয়ে দেখতে গেলে, গুগলের সার্চ অ্যালগরিদমেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।
তবে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে আঞ্চলিক এবং হাইপারলোকাল নিউজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে বিষয়টা বিজ্ঞাপনদাতাদের ভীষণভাবে আকর্ষিত করছে। সেইজন্য, ইনফরমেশন এবং এন্টারটেইনমেন্ট মিশে গিয়ে তৈরি হয়েছে ইনফোটেইনমেন্ট কনটেন্ট।
পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের গুরুত্ব বাড়ছে প্রতিদিন। সেইসঙ্গে, মিডিয়া হাউজগুলিতে ইমোশন অফ ভিউয়ার, চয়েস অফ ভিউয়ার, মুড ম্যাপিং, এই বিষয়গুলিকে ভীষণভাবে প্রাধান্য দিচ্ছেন কনটেন্ট প্রোডিউসাররা।
অপরদিকে, বিজ্ঞাপনদাতারা দেখেছেন রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI), মাল্টি সোর্স ডেটা ট্র্যাকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলি। গোটা বিশ্বেই এই মুহূর্তে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার আকাশছোঁয়া। প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। বার্ষিক ১৫-২০% বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে প্রতি বছর।
নিঃসন্দেহে বলা চলে, ভারতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার রীতিমতো তুঙ্গে। মার্কেট অ্যানালিস্ট মনে করছেন, ২০২৮ অর্থবর্ষে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বিনিয়োগ গিয়ে পৌঁছবে ১০.২ বিলিয়ন ডলার তথা ৮৫,০০০ কোটি টাকায়। কারণ, ২০২৫ অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫৯,২০০ কোটি টাকা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পিছনে ব্যয় করেছে ব্র্যান্ডগুলি। যা প্রায় গোটা বিজ্ঞাপনের বাজারের ৪৬%। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক ইনভেস্টমেন্ট।
কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট (CAGR) অনুযায়ী, ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার তুলনায় ডিজিটাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজার অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে মূলত তিনটি জিনিস সাহায্য করছে। টার্গেট ভিউয়ার, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিসিস এবং পারফরম্যান্স মার্কেটিং।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সবথেকে এগিয়ে আছে এফএমসিজি এবং গাড়ির ব্র্যান্ডগুলি। এছাড়াও, ইলেকট্রনিক্স, লাইফস্টাইল সহ একাধিক প্রোডাক্টের নামীদামী ব্র্যান্ডের বহুল বিনিয়োগ রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে।
এই মুহূর্তে ভারতের প্রায় ১২.৯২ কোটি মানুষ কানেকটেড টিভি ব্যবহার করছেন। রিয়েল টাইম অ্যানালিসিস অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৯১% এনগেেজমেন্ট রেট পাওয়া যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, দেশের প্রায় ৫৪.৭ কোটি মানুষ ওটিটি ইউজার। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনের বিপুল বাজার যেন কার্যত, হাতের মুঠোয়। সেটা যত দিন যাচ্ছে, ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে লাভের অঙ্কটা ছিল ৩৭,৯৪০ কোটি টাকা।
তাছাড়া বহু মানুষ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন এবং প্রায় ৭০% মানুষ আজকাল অনলাইনেই খবর পড়েন। ফলে, বিজ্ঞাপনের এই বিরাট বাজারের দখল নিতে চাইছে সমস্ত ব্র্যান্ড।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।