
Best Online Games to Make Money: কয়েক বছর আগেও অনলাইন গেম খেলাকে লোকে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই ভাবত না। বাড়িতে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপে গেম খেললে শুনতে হতো, "সারাদিন শুধু গেম আর গেম!" কিন্তু এখন ছবিটা পুরোপুরি বদলে গেছে। আজকের Gen Z এই গেমিং স্কিলকে কাজে লাগিয়েই মাসে লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে। ভারতে অনলাইন গেমিং ইন্ডাস্ট্রি দ্রুতগতিতে বাড়ছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য রোজগারের নতুন রাস্তাও খুলে যাচ্ছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা শুধু গেম খেলছে না, বরং ইউটিউবে লাইভ স্ট্রিমিং করছে, ইনস্টাগ্রামে গেমিং ভিডিও বানাচ্ছে, বড় বড় টুর্নামেন্ট জিতছে আর বিভিন্ন কোম্পানির থেকে স্পনসরশিপও পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, অনেকেই শুধু একটা স্মার্টফোনের জোরে গেমিং দুনিয়ায় নিজেদের পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছে। আপনারও যদি মোবাইল গেম খেলার শখ থাকে, তাহলে এই ৫টি অনলাইন গেম আপনার জন্যও রোজগারের একটা দারুণ সুযোগ হতে পারে।
BGMI (Battlegrounds Mobile India) এখন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেমগুলোর মধ্যে একটা। এই গেমে প্লেয়াররা দল বানিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নামে এবং নিজেদের স্ট্র্যাটেজি দিয়ে জেতার চেষ্টা করে। কিন্তু এখন এই গেম শুধু বিনোদনের জন্য নয়। বহু তরুণ BGMI খেলে ইউটিউব আর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিখ্যাত হয়ে গেছে। লাইভ স্ট্রিমিং, গেমিং টুর্নামেন্ট আর স্পনসরশিপের মাধ্যমে প্লেয়াররা প্রতি মাসে মোটা টাকা আয় করছেন। যাঁদের গেমপ্লে ভালো, তাঁদের ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ধীরে ধীরে ফলোয়ার্সও বাড়তে থাকে। এই ফলোয়ার্সই পরে আয়ের একটা বড় মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ফ্রি ফায়ার ম্যাক্স (Free Fire MAX)-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি কম দামি স্মার্টফোনেও দিব্যি চলে যায়। এই কারণেই ছোট শহর ও গ্রামের তরুণদের মধ্যে এই গেমটি খুব জনপ্রিয়। আজ বহু প্লেয়ার ফ্রি ফায়ারের গেমিং ভিডিও বানিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং ইউটিউব শর্টসে লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে। এছাড়া অনলাইন টুর্নামেন্ট এবং কাস্টম ম্যাচের মাধ্যমেও রোজগারের সুযোগ রয়েছে। অনেক গেমার এখন এই গেমের দৌলতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে উঠেছেন।
যাঁরা হাই-গ্রাফিক্স আর অ্যাকশনে ভরপুর গেম ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য কল অফ ডিউটি মোবাইল (Call of Duty: Mobile) একটা দারুণ অপশন। এই গেমটি প্রো-লেভেল গেমিংয়ের জন্য পরিচিত এবং এতে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। বহু প্লেয়ার এই গেমের লাইভ স্ট্রিমিং করে ভালো টাকা আয় করছেন। আবার কেউ কেউ নতুন গেমারদের ট্রেনিং দিয়েও পয়সা কামাচ্ছেন। বড় গেমিং টুর্নামেন্টে অংশ নিলে প্লেয়াররা লাখ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার জেতেন। এই কারণেই তরুণ প্রজন্ম এখন গেমিংকে কেরিয়ার হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
মাইনক্রাফ্ট (Minecraft) বাকি গেমগুলোর থেকে একটু আলাদা। কারণ এখানে প্লেয়াররা নিজেদের ইচ্ছেমতো একটা জগৎ তৈরি করতে পারে। এই সৃজনশীলতাই গেমটিকে বিশেষ করে তুলেছে। আজ ইউটিউবে মাইনক্রাফ্ট সংক্রান্ত ভিডিওর প্রচুর দর্শক রয়েছে। অনেকে এই গেমে নতুন ম্যাপ বা ডিজাইন তৈরি করে সেগুলো বিক্রিও করেন। আবার কেউ কেউ বাচ্চাদের মাইনক্রাফ্টের মাধ্যমে ক্রিয়েটিভ লার্নিং শিখিয়েও আয় করছেন। যাঁদের ক্রিয়েটিভ কাজ পছন্দ, তাঁদের জন্য এই গেমটি দারুণ সুযোগ হতে পারে।
রোবলক্স (Roblox) এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে প্লেয়াররা শুধু গেম খেলেই না, নিজেদের গেম তৈরিও করতে পারে। এই কারণেই Gen Z-এর মধ্যে এই গেমটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। বহু তরুণ রোবলক্সে নিজেদের ভার্চুয়াল গেম বানিয়ে তা থেকে আয় করছে। গেমের মধ্যে কেনা-বেচার আইটেম, লাইভ স্ট্রিমিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোমোশন থেকেও ভালো আয় হয়। কেউ কেউ তো এটাকে নিজেদের ফুল-টাইম কেরিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন।