
ইন্টারনেট এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজন। পড়াশোনা, কাজ, অনলাইন পরিষেবা থেকে ভিডিও কল—সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন দ্রুত ইন্টারনেট। কিন্তু দেশের এখনও এমন বহু প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া কঠিন। এবার সেই সমস্যার সমাধানে বড় পরিকল্পনা করছে রিলায়েন্স জিও। রিপোর্ট অনুযায়ী, জিও লো আর্থ অরবিট বা LEO-তে প্রায় ১৬০০টি স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এই স্যাটেলাইটগুলি অবস্থান করবে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
সহজভাবে বললে, যেখানে মোবাইল টাওয়ার বসানো বা ফাইবার কেবল পৌঁছে দেওয়া কঠিন, সেখানেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। গ্রাম, পাহাড়ি এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ফলে দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাটিতে বিশাল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি না করেও স্যাটেলাইটের সাহায্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই প্রযুক্তিই ব্যবহার করছে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া বিভিন্ন সংস্থা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে কয়েকটি স্যাটেলাইট দিয়ে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুরু করতে পারে জিও। এরপর ২০২৮ সালের শুরু থেকে বড় পরিসরে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গিয়েছে, জিওর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০০ থেকে ৫০০টি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানো। এরপর ধাপে ধাপে সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৬০০টি স্যাটেলাইটের পূর্ণ নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জিওর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। সংস্থাটির অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে Starlink। পাশাপাশি Amazon Leo-র সঙ্গেও প্রতিযোগিতায় নামতে পারে জিও। বর্তমানে স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইটগুলি প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে। অন্যদিকে জিওর পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক থাকবে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায়। ফলে আগামী কয়েক বছরে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার বাজারে জিও, স্টারলিঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে বড় প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে।