মঙ্গলে ধাক্কা খেয়ে ধ্বংস হবে তার উপগ্রহ! লাল গ্রহে মিলল আরেক চাঁদের মৃত্যুপ্রমাণ

Published : Jul 31, 2026, 09:25 PM IST
Mars phobos destroy collision proof red planet moon

সংক্ষিপ্ত

মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবস প্রতি বছর ২ সেমি করে মঙ্গলের দিকে এগোচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী ৩০-৫০ মিলিয়ন বছরে এটি ভেঙে মঙ্গলের চারপাশে রিং তৈরি করবে। ফোবসের গায়ে ফাটলই এই মৃত্যুর প্রমাণ।

মহাকাশে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। জন্ম হয়, আবার ধ্বংসও হয়। এবার সেই তালিকায় নাম উঠল লাল গ্রহ মঙ্গলের নিজের চাঁদের। লাল গ্রহ মঙ্গলের আকাশে দুটো চাঁদ ঘোরে - ফোবস আর ডিমোস। নামগুলো গ্রিক পুরাণ থেকে নেওয়া। ফোবস মানে ভয়, আর ডিমোস মানে আতঙ্ক। দুটোর মধ্যে ফোবসই বড়। প্রায় ২২ কিমি চওড়া এই পাথরের টুকরোটা এখন মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।

ফোবস প্রতি বছর মঙ্গলের কাছে চলে আসছে

নাসা, ESA আর জাপানের JAXA-র দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে একটা ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। ফোবস প্রতি বছর প্রায় ২ সেন্টিমিটার করে মঙ্গলের দিকে নেমে আসছে। ২ সেমি শুনে মনে হতে পারে এ আর এমন কি। কিন্তু সময়ের হিসাবটা ধরুন। ১০ বছরে ২০ মিটার। আর কয়েক কোটি বছরে? বিজ্ঞানীদের সুপার কম্পিউটারের হিসাব বলছে, আগামী ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে ফোবসের সাথে মঙ্গলের সংঘর্ষ অনিবার্য।

কেন ভেঙে টুকরো হবে ফোবস? "রোশ লিমিট"-এর খেলা

এর পেছনে আছে পদার্থবিদ্যার একটা নিয়ম, যার নাম "রোশ লিমিট"। কোনো উপগ্রহ যখন তার গ্রহের খুব কাছে চলে আসে, তখন গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ টান উপগ্রহের নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণের থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়।

ফল? 

উপগ্রহ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যায়। ফোবস এখন সেই বিপদসীমার দিকেই যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফোবস যখন ভাঙবে তখন দুটো জিনিস হতে পারে। এক, পুরো উপগ্রহটা সোজা মঙ্গলের বুকে আছড়ে পড়ে বিশাল গর্ত তৈরি করবে। দুই, ভেঙে মঙ্গলকে ঘিরে একটা রিং তৈরি করবে। অনেকটা শনি বা বৃহস্পতির মতো। এই রিং অবশ্য বেশিদিন থাকবে না। কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ বছরের মধ্যে রিং-এর ধুলো আর পাথরগুলোও আবার মঙ্গলের বুকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়বে।

আরেক চাঁদের মৃত্যুর প্রমাণ মিলল কোথায়?

সবচেয়ে বড় প্রমাণ দিয়েছে নাসার "মার্স রিকনেসাঁস অরবিটার" আর "MAVEN" মিশন। তারা ফোবসের পাঠানো ছবি আর গ্র্যাভিটি ডেটা অ্যানালাইসিস করে দেখেছে।

প্রথম প্রমাণ: ফোবসের গোটা গায়ে বড় বড় ফাটল। বিজ্ঞানীরা একে "গ্রুভস" বলেন। এই ফাটলগুলো ২০-৩০ কিমি পর্যন্ত লম্বা। এর মানে ফোবসের ভেতরটা এখন ফাঁপা আর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলের টানেই এই ফাটল বাড়ছে।

দ্বিতীয় প্রমাণ: ফোবসের কক্ষপথ। ওর কক্ষপথ আর গোল নেই। ক্রমশ উপবৃত্তাকার হচ্ছে। মানে ও স্থিতিশীল নেই। ধীরে ধীরে মঙ্গলের দিকে হেলে পড়ছে।

তাহলে ডিমোসের কি হবে? ও কি বেঁচে যাবে?

হ্যাঁ। ডিমোসের জন্য সুখবর। ছোট চাঁদ ডিমোস ফোবসের উল্টো দিকে যাচ্ছে। ও প্রতি বছর খুব ধীরে ধীরে মঙ্গল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই ডিমোসের ধ্বংস হওয়ার কোনো চান্স নেই। বরং কোটি কোটি বছর পর ও মঙ্গলকে ছেড়ে স্বাধীন গ্রহাণু হয়ে যেতে পারে।

অতএব সংক্ষেপে বললে, মঙ্গলের বড় চাঁদ ফোবসের হাতে সময় খুব কম। প্রতি বছর ২ সেমি করে ও মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে। গায়ের ফাটল আর কক্ষপথের বদলই তার প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক কোটি বছর পর ফোবস ভেঙে মঙ্গলের চারপাশে রিং তৈরি করবে। তারপর সেই রিং-ও একদিন শেষ হয়ে যাবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

OnePlus N6x: ব্যাটারি ব্যাকআপ 7000mAh, বাজারে আসছে OnePlus -র নতুন ফোন,জানুন দাম ও ফিচার্স
Flipkart Pay Later: "আগে কিনুন, পরে টাকা দেবেন", ফ্লিপকার্টের অভিনব কায়দা! চালু হল নতুন ‘পে লেটার’ সার্ভিস