
ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু করতে দেরি হওয়া নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিলেন ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ ছিল, দেশের কিছু ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুতে বাধা দিচ্ছেন। এবার সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো ন্যায্য এবং বৈষম্যহীন। মাস্কের অভিযোগকে সরকার ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত’ বলে দাবি করেছে।
কী অভিযোগ করেছিলেন ইলন মাস্ক?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টের জবাবে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতে স্টারলিঙ্ককে কয়েকজন ‘অলিগার্ক’ আটকে রেখেছেন। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের উপর নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে মাস্ক তাঁর পোস্টে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার নাম করেননি। মাস্ক আরও দাবি করেন, ভারতে স্টারলিঙ্ক চালু হলে প্রত্যন্ত ও কম পরিষেবা পাওয়া এলাকাগুলিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মাস্কের অভিযোগের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রক জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ টেলিকম পরিষেবার জন্য দেশে একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীকেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। বর্তমানে তিনটি সংস্থার ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই চলছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। বর্তমানে তিনটি সংস্থাই মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। তাই কোনও একটি সংস্থাকে আলাদাভাবে আটকে রাখা হচ্ছে বা নিয়ম বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।
ভারতে পরিষেবা চালুর জন্য স্টারলিঙ্ক ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরিকাঠামো তৈরি করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা মেনে ভারত-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় গেটওয়ে সাইটও তৈরি করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর জন্য এখনও প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া বাকি।
ভারতে এখনও বহু প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যেখানে মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করা কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। Starlink-এর পরিষেবা চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারেও প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।