
ভারতে এখনও সর্বত্র ৫জি পরিষেবা পৌঁছয়নি। কোথাও নেটওয়ার্কের সমস্যা, কোথাও আবার ইন্টারনেটের গতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। এর মধ্যেই পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি ৬জি চালুর প্রস্তুতি শুরু করেছে রিলায়েন্স জিও। সংস্থার দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির সঙ্গে ৬জি পরিষেবা চালুর দৌড়ে থাকতে পারে। দিল্লিতে আয়োজিত India Mobile Congress (IMC) 2026-এ জিও তাদের প্রি-৬জি প্রযুক্তি এবং নতুন Giga MIMO Radio প্রদর্শন করেছে। সংস্থার লক্ষ্য ভবিষ্যতের নেটওয়ার্কে আরও বেশি ডেটা সামলানো এবং তথ্য আদানপ্রদানে দেরি কমানো।
জিও-র প্রদর্শিত প্রযুক্তি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার লক্ষ্য বর্তমান ৫জি নেটওয়ার্কের তুলনায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক সক্ষমতা এবং প্রায় ১০ গুণ কম ল্যাটেন্সি অর্জন করা। ল্যাটেন্সি বলতে কোনও নির্দেশ পাঠানোর পর নেটওয়ার্কের প্রতিক্রিয়া জানাতে যতটা সময় লাগে, সেটাকেই বোঝায়। এই লক্ষ্য পূরণ হলে ভবিষ্যতে দ্রুতগতির AI পরিষেবা, উন্নত ভিডিও যোগাযোগ, হোলোগ্রাফিক ভিডিও এবং দূর থেকে চিকিৎসার মতো প্রযুক্তিতে সুবিধা হতে পারে। তবে এগুলি সংস্থার লক্ষ্য ও সম্ভাব্য প্রয়োগ, এখনই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নিশ্চিত পরিষেবা নয়।
জিও-র ৬জি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হল Giga MIMO Radio। MIMO-র পুরো অর্থ Multiple Input Multiple Output। এই প্রযুক্তিতে একাধিক অ্যান্টেনা ব্যবহার করে একই সঙ্গে ডেটা পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়। এর ফলে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা এবং দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে। জিও-র দাবি, তাদের এই নতুন রেডিও প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ৬জি নেটওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সংস্থাটি এর পাশাপাশি এমন একটি কমন বেসব্যান্ড ইউনিটও দেখিয়েছে, যা ৫জি এবং ৬জি—দুই ধরনের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি সমর্থন করার জন্য তৈরি।
জিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬জি নেটওয়ার্কে ডেটা বহনের ক্ষমতা বর্তমান ৫জি-র তুলনায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ল্যাটেন্সি দশ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। ল্যাটেন্সি ৫জি-র তুলনায় ১০ গুণ ।