
ফোন কেনার প্ল্যান থাকলে আর দেরি করবেন না। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে স্মার্টফোনের দামে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। চিপ বানানো কোম্পানি Qualcomm জানিয়ে দিয়েছে, ১ তারিখের পর থেকে তাদের চিপের দাম ডাবল ডিজিটে বাড়বে। সাপ্লায়ারদের খরচ আর সামলাতে পারছে না তারা।
সমস্যা হল এই Qualcomm এর Snapdragon চিপই ব্যবহার হয় Samsung, Xiaomi, OnePlus, Vivo, Oppo সহ বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। তাই কোম্পানিগুলোর কাছে রাস্তা দুটো, হয় নিজেরা লস খাবে নাহলে দাম বাড়িয়ে সেই খরচ আমাদের ঘাড়ে চাপাবে। সোজা কথা, আপনার পছন্দের ফোনটার দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
দাম বাড়ার পেছনে একটা নয়, কয়েকটা কারণ একসাথে কাজ করছে। প্রথমত Qualcomm বলছে গত কয়েক মাসে পার্টসের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বিকল্প সাপ্লায়ারও খুঁজেছিল, কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
দ্বিতীয় বড় কারণ হল মেমরি চিপের সংকট। গোটা দুনিয়ায় এখন DRAM আর NAND চিপের চাহিদা তুঙ্গে। AI সার্ভার আর ডেটা সেন্টার সব কিনে নিচ্ছে। ফলে মোবাইলের জন্য চিপ কম পড়ছে। গত বছরে 1GB RAM এর দাম ছিল ২৭০ টাকা, এখন সেটা ১২০০ টাকা। Google আর Xiaomi আগেই এর প্রভাব ফোনের দামে ফেলেছে।
আর তৃতীয়ত, ভারতে ৯৯% ফোন এখন দেশেই তৈরি হলেও মেমরি চিপ ১০০% বিদেশ থেকে আসে। তাই গ্লোবাল মার্কেটে দাম বাড়লে তার সোজা প্রভাব পড়ে আমাদের পকেটে।
বাজেট সেগমেন্টেই সবচেয়ে বড় মার Qualcomm এর দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বাজেট আর মিড-রেঞ্জ ফোনে। কারণ প্রিমিয়াম ফোনের ক্রেতারা দাম নিয়ে অতটা ভাবে না। কিন্তু ২০ হাজারের নিচের ফোনে কোম্পানির লাভের মার্জিন এমনিতেই কম। তাই সেখানেই দাম বাড়াতে বাধ্য হবে তারা।
ইতিমধ্যেই Xiaomi তাদের Redmi আর Xiaomi সিরিজের দাম ১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। Samsung এর নতুন Galaxy S26 সিরিজ গত বছরের তুলনায় ৭ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি। Google ও জানিয়েছে Pixel 11 এর দাম বাড়বে। রিটেলারদের হিসাব বলছে ২০২৬-এর শুরু থেকেই বাজেট ফোনের দাম গড়ে ১৫ থেকে ১৭% বেড়েছে। যে ফোন ১৮ হাজারে পাওয়া যেত সেটা এখন ২৫ হাজারের ঘরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই দাম উৎসবের পর কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। উল্টে চাহিদা বাড়লে আরও বাড়তে পারে। তাই বাজেট বা মিড-রেঞ্জ ফোন কেনার ইচ্ছা থাকলে ১ সেপ্টেম্বরের আগেই কিনে ফেলুন।
আর ফোন কেনার সময় এখন 8GB RAM আর 128GB স্টোরেজটাকে বেস ধরে নিন। কারণ কোম্পানিগুলো এটাকেই স্ট্যান্ডার্ড করতে চলেছে। সাথে ২ বছরের OS আপডেট আছে কিনা দেখে নেবেন। দাম বেশি দিয়েই যদি কিনতে হয়, তাহলে ফোনটা যেন অন্তত ৩-৪ বছর চলে।