
আমরা সবাই ভাবি ফোনে প্যাটার্ন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক দিলেই সব সেফ। কিন্তু ভাবুন তো, আপনার বন্ধু বা বাড়ির কেউ যখন আপনার ফোনটা চায়, তখন আপনি লক খুলে দেন। আর তখনই আপনার WhatsApp-এর সমস্ত ব্যক্তিগত চ্যাট, ছবি, ভিডিও অন্যের হাতে চলে যায়। এই বিপদ থেকে বাঁচাতেই WhatsApp নিয়ে এসেছে দুর্দান্ত একটি ফিচার, যার নাম Chat Lock।
১. Chat Lock ফিচারটি আসলে কী?
এটি WhatsApp-এর এমন একটি ফিচার যেখানে আপনি আলাদা আলাদা চ্যাট লক করে রাখতে পারবেন। ধরুন আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ড, বস বা ব্যাঙ্কের চ্যাট লক করে রাখলেন। তখন কেউ আপনার ফোন খুললেও সেই চ্যাটগুলো দেখতে পারবে না। সেই চ্যাটগুলো একটি আলাদা Locked Chats ফোল্ডারে চলে যাবে এবং খুলতে গেলে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস লক লাগবে। এমনকি সেই চ্যাটের নোটিফিকেশনেও মেসেজের নাম বা মেসেজ দেখাবে না।
২. কীভাবে এই ফিচারটি অন করবেন?
এই ফিচারটি অন করা খুবই সহজ। প্রথমে WhatsApp ওপেন করে যে চ্যাটটি লক করতে চান সেটির উপর লং প্রেস করুন। তারপর উপরে থ্রি ডটে ক্লিক করে Chat Lock অপশনটি সিলেক্ট করুন। এরপর Lock this chat with fingerprint বলে একটি অপশন আসবে, সেখানে ক্লিক করুন এবং আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিন। ব্যাস, চ্যাটটি লক হয়ে Locked Chats ফোল্ডারে চলে যাবে। চাইলে WhatsApp সেটিংস > Privacy > Chat Lock থেকেও এটি ম্যানেজ করতে পারবেন।
৩. Secret Code দিয়ে আরও সুরক্ষা
WhatsApp এখন আরও একটি নতুন ফিচার এনেছে, Secret Code। আপনি Locked Chats ফোল্ডারটি লুকিয়ে রাখতে পারবেন। সেটিংসে গিয়ে Secret Code সেট করলে, WhatsApp-এর সার্চ বারে সেই কোড টাইপ করলেই শুধু লক করা চ্যাটগুলো দেখা যাবে। কেউ জানতেই পারবে না যে আপনি কোনও চ্যাট লক করে রেখেছেন। যারা প্রাইভেসি নিয়ে বেশি চিন্তিত, তাদের জন্য এটি সেরা ফিচার।
৪. কেন এখনই এই ফিচারটি অন করা জরুরি?
আজকাল WhatsApp-এ ব্যাঙ্কের OTP থেকে শুরু করে অফিসের গোপন তথ্য সবই থাকে। ফোন একবার অন্যের হাতে গেলে বড় বিপদ হতে পারে। অনেক সময় বন্ধুরা মজা করে চ্যাট পড়ে নেয়। এই ফিচার অন থাকলে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট ১০০% সুরক্ষিত থাকবে। তাই দেরি না করে এখনই আপনার গুরুত্বপূর্ণ চ্যাটগুলো লক করে রাখুন।
তবে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, কোনো চ্যাট লক করলে কি ওই ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয়ে যায়? এর উত্তর হলো-না। চ্যাট লক থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করতে পারলে সেই কল আপনার ফোনে আসবে। এই ফিচারের মূল কাজ হলো কথোপকথন ও চ্যাটের ইতিহাসকে সাধারণ তালিকা থেকে সুরক্ষিত রাখা।