
বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর বিকাশ দুটি ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। একদিকে আমেরিকা ও চিনের মতো দেশগুলো অত্যাধুনিক AI মডেলের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। অন্যদিকে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে এমন AI সমাধান তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করাটাই আসল প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কার্নেগি ইন্ডিয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে আয়োজিত GTS ইনোভেশন ডায়ালগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। AI ডেভেলপাররা স্পষ্ট করেছেন যে, AI সমাধান ব্যাপকভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রধান কারণ কম্পিউটিং পাওয়ারের অভাব নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার অভাবই আসল সমস্যা।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মরত AI টিমগুলো বেশিরভাগই বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। একটি দেশে তৈরি সমাধান অন্য দেশে একই সমস্যার জন্য উপযোগী হতে পারলেও, পারস্পরিক যোগাযোগের অভাবে তা হচ্ছে না। এটি সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে।
একদিকে রয়েছে AI অ্যাপ্লিকেশন তৈরির দল, অন্যদিকে কম্পিউটিং পরিকাঠামো সরবরাহকারী সংস্থা। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সঠিক সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। ভারতে কার্যকরভাবে কাজ করা AI সমাধানগুলো বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর নির্ভর করে না। ছোট ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, বিশেষায়িত মডেল এবং এজ কম্পিউটিং-এর মিশ্রণে তৈরি হাইব্রিড পদ্ধতিগুলোই বেশি কার্যকর। এই বাস্তবতা পরিকাঠামো পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হচ্ছে না। অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা এবং কম্পিউট প্রোভাইডাররা একসঙ্গে কাজ করলেই সঠিক AI সিস্টেম তৈরি হবে।
আমেরিকা ও চিনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ফ্রন্টিয়ার AI মডেলের প্রতিযোগিতায় নামা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য বিশাল বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বিপুল কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। তবে এটি কোনো ঘাটতি নয়, বরং এটি একটি সুযোগে পরিণত হতে পারে। গ্লোবাল সাউথের শক্তি অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে নিহিত। স্থানীয় ভাষা, স্থানীয় সমস্যা এবং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী AI সমাধান তৈরি করাই এখানকার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সাব-সাহারান আফ্রিকায় কৃষি ক্ষেত্রে কাজ করা AI সমাধান দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকর হতে পারে। লাতিন আমেরিকায় স্বাস্থ্য খাতে পরীক্ষিত প্রযুক্তি ভারতের মতো দেশগুলোকে পথ দেখাতে পারে। ভারতের 'ভাষিণী' প্ল্যাটফর্ম এই ধরনের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একটি ভালো উদাহরণ।
বর্তমানে AI-এর বাস্তবায়ন মূলত হাইপারস্কেলারদের দেওয়া কম্পিউট ক্রেডিটের ওপর নির্ভরশীল। এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কোনো পদ্ধতি নয়। ফলাফলের ভিত্তিতে পেমেন্ট চুক্তি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আউটপুট-ভিত্তিক মডেল প্রয়োজন। এগুলোর সাফল্যের জন্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য। একসঙ্গে কেনাকাটা, ভাগ করে নেওয়া পরিকাঠামো এবং সমন্বিত নীতি থাকলেই বিনিয়োগ আকর্ষণকারী বাজার তৈরি হবে।
India AI Impact Summit গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জেতা সম্ভব নয় এমন প্রতিযোগিতায় না নেমে, মানুষের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে এমন AI ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে। অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার এবং কম্পিউট প্রোভাইডারদের মধ্যে একটি সত্যিকারের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোর মধ্যে গভীর সহযোগিতা দরকার। আলাদা থেকে পিছিয়ে পড়া, নাকি একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া? সহযোগিতাই গ্লোবাল সাউথের ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।