
দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম হয়ে জয়পুর পর্যন্ত যে জাতীয় মহাসড়ক ৪৮, বা এনএইচ-৪৮, দেশের অন্যতম ব্যস্ততম এবং দ্রুতগতির করিডোর হিসাবে মনে করা হয় এই রাস্তাকে। ফলস্বরূপ এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে যে একটি দ্রুতগামী থার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বড় সাইনবোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে।
ভাইরাল ক্লিপে দেখা যাচ্ছে যে একটি কালো থার দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করছে এবং হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। গাড়িটি লাফিয়ে পড়ে এবং রাস্তার পাশের একটি বড় সাইনবোর্ডে ধাক্কা খায়। ভিডিওটিতে সাইনবোর্ডের ফ্রেমের মধ্যে গাড়িটি আটকে থাকতে দেখা গিয়েছে।
দাবি করা হচ্ছে যে দিল্লি-গুরুগ্রাম-জয়পুর রুটে অবস্থিত এনএইচ-৪৮-তে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে, স্থানীয় পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি, বা কোনও নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্র ঘটনাটি নিশ্চিত করেনি।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী দাবি করছেন এটি একটি বাস্তব দুর্ঘটনা, আবার কেউ কেউ বলছেন যে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এই ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি। আপনি যদি মনোযোগ সহকারে দেখেন, তাহলে দেখবেন বাম দিকের সাইনবোর্ডটি ইংরেজিতে লেখা এবং ডানদিকে এমন একটি ভাষায় লেখা যা বোঝা কঠিন। দয়া করে মনোযোগ দিন।"
আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "ভিডিওটি ভাইরাল হতে পারে, তবে রাস্তায় সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রসিকতা ঠিক আছে, তবে নিরাপত্তা সবার আগে।" আরেকজন ব্যবহারকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, “এটি অবশ্যই বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক চালক।” এই প্রতিক্রিয়াগুলি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে মানুষ সন্দিহান। আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, কোনও ভাইরাল বিষয়বস্তুকে চূড়ান্ত সত্য হিসাবে বিবেচনা করা উপযুক্ত নয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, মহাসড়কে গতি এবং স্টান্টের অসংখ্য ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে এসইউভি এবং অফ-রোডিং যানবাহনের ক্ষেত্রে রিল এবং ছোট ভিডিও তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা কেবল চালকদের জন্যই নয়, অন্যান্য যাত্রীদের জন্যও বিপদ ডেকে আনে। ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে উচ্চ-গতির করিডোরে গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ ব্রেক করা, তীব্র বাঁক নেওয়া বা মনোযোগ বিঘ্নিত করা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ৮০-১০০ কিমি/ঘন্টা গতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। ভাইরাল দাবি অনুসারে, এই কথিত দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি। তবে, এর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকেরা জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, এই ভিডিওটির সত্যতা এশিয়ানেট নিউজ বাংলা যাচাই করেনি। তাই, ভাইরাল দাবিগুলি খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।