
Abhishek PA Sumit Roy: শালবনির জমি দুর্নীতি থেকে বালি কারবারে অনিয়ম। একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। ধৃতের এবার ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলো আদালত। সোমবার সুমিত রায়কে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হলো তাকে ১৪ দিনের ফের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। শালবনির বালি ব্যবসায়ীর কাজ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগের মামলায় শালবনী থানার পুলিশের হেফাজতে ছিল সুমিত রায়।
শনিবারই মেদিনীপুর আদালতে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, তদন্তে উঠে এসেছে সুমিত রায় একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলে তা ব্যবহার করত। এরকম ছয় জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে এক ব্যক্তির নামে দুটি সিম তোলা হয় ও চারজনের নামে আলাদা আলাদা ভাবে সিম তোলা হয়। প্রত্যেকেরই বাড়ি কালীঘাট থানা এলাকায়। তাদের নোটিস করে ডেকে পাঠানো হয় শালবনী থানায়। জানা গিয়েছে শালবনী থানায় ইতিমধ্যেই এসে সমস্ত তথ্য জমা দিয়েছে ওই সিমকার্ডের মালিকেরা। তিনজনের কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে আজ তা আদালতের কাছে রাখে শালবনি থানার পুলিশ।
এই মামলায় যে সিম কার্ড এর তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে সেই গুলোই মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় পরবর্তীকালে সুমিত রায় আবার নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে বলে আদালতে জানিয়েছে সরকারি আইনজীবী। এই দিন সুমিতের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করলেও সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিচারক। বলে জানান সরকারি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব।
প্রসঙ্গত, বালি ব্যবসায়ীর অভিযোগে সুমিত গ্রেফতার হয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীর অভিযোগ ছিল, গাড়ি করে অতিরিক্ত বালি বহনের অনুমতি দিতে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন সুমিত। কিন্তু ছাড়পত্র মেলেনি। ওই টাকাও ফেরত পাননি তিনি। চলতি বছরের ২৬ জুন শালবনি থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন সেই ব্যবসায়ী। এর আগে ডেবরা থানায় চাকরি প্রতারণা মামলায় CID-তে হাজিরা দেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় CID-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যে, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা পৌঁছে গিয়েছিল অভিষেকের আপ্ত সহায়ক কাছে। এই মামলায় তৎকালীন মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরার নামও রয়েছে। অভিযোগকারী প্রসেনজিৎ রায়ের দাবি, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ জন চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তার বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে মোট প্রায় ১২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুজয় হাজরা চাকরিপ্রার্থীদের আশিক কাজি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আশিক কাজি নিজেকে নবান্নের সরকারি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর চাকরিপ্রার্থীদের খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনের মতো সরকারি দফতরে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.