
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, ১১০ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা এবং ৩(৫) ধারায় একই অভিপ্রায়ে দলবদ্ধ ভাবে অপরাধের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত নেমে পুলিশ ১৪ জনকে আটক করেছিল। আজ তাঁদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুজো কমিটির সম্পাদক রাজ কুমার সেওদা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে বাঁশের কাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ গিরিশ পার্ক থানার অন্তর্গত সারদা পার্কের চোরবাগান পুজো মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে অপেক্ষা করা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করেন। আগে থেকেই ভিড় থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রাথমিক রিপোর্টে অন্তত ৩৫ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, পরবর্তী আপডেটে ১৯ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। নিরাপত্তার কারণে পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর গেট ছিল সংকীর্ণ। পাশাপাশি, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিড়ের মধ্যে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজনকে মোটরবাইকে করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। এই ধরা জারি থাকবে ২০ তারিখ পর্যন্ত। কলুটোলা স্ট্রিট থেকে কলেজ স্ট্রিট হয়ে ইডেন হাসপাতাল। কলুটোলা স্ট্রিট থেকে CR অ্যাভিনিউ হয়ে ইডেন হাসপাতাল। কলেজ স্ট্রিট থেকে কলুটোলা স্ট্রিট হয়ে CR অ্যাভিনিউ ও কলেজ স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল হয়ে CR অ্যাভিনিউ পর্যন্ত জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো এ বছর ৯১তম বর্ষে পা দিয়েছে। এ বছরের থিম ছিল ‘অরব’—যার ভাবার্থ শব্দ ও কোলাহল থেকে দূরে থাকা। মণ্ডপে দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তুলে ধরা হয়েছিল। শান্তি ও সংযমের বার্তা দেওয়াই ছিল এই থিমের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সপ্তমীর সন্ধ্যায় সেই মণ্ডপেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.