উদয়নারায়ণপুরে বুথে কী হয়েছিল? বৃদ্ধের মৃত্যুতে ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেককে ভুল প্রমাণ কমিশনের

Published : May 01, 2026, 01:22 PM IST
Udaynarayanpur Voter Death Controversy

সংক্ষিপ্ত

West Bengal Election 2026: হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে বুথের ভিতর বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিল নির্বাচন কমিশন। ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় যে দাবি করেছিলেন, তাকে ভুল বলে জানিয়েছে কমিশন।

West Bengal Election 2026: হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে বুথের ভিতর বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিল নির্বাচন কমিশন। ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেছিলেন, তাকে ভুল বলে পাল্টা দাবিও করেছে কমিশন। বলা হয়েছে, হাওড়ার ওই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি। কাউকে ধাক্কাও দেওয়া হয়নি। ওই বৃদ্ধ শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মারা গিয়েছেন।

হাওড়া গ্রামীণ জেলার পেঁরো থানার অন্তর্গত কুরিট গ্রামের বাসিন্দা ৮২ বছর বয়সি পূর্ণচন্দ্র দোলুই তাঁর ছেলের সঙ্গে ১৮ উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসেছিলেন। ভোট দেওয়ার পরে তিনি বুথের মধ্যে পড়ে যান। সেই সময়ে তাঁর ছেলে বুথের ভিতরেই উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, "অমিত শাহের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন বিজেপির 'ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী'তে পরিণত হয়েছে—বাংলার সাধারণ মানুষের উপর লেলিয়ে দেওয়া একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা। উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে তিনি একা হাঁটতে পারছিলেন না; তাই তাঁর ছেলে তাঁকে ধরে বুথের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের দুজনকেই ধাক্কা দেয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। বৃদ্ধটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে তড়িঘড়ি আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছনোর পরপরই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভোরবেলা থেকেই এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। মহিলাদের চড় মারা, বৃদ্ধদের উপর হামলা চালানো এবং এমনকি শিশুদেরও আক্রমণ করা থেকে তারা বিরত থাকছে না। এটাই হল ২০২১ সালের 'শীতলকুচি মানসিকতা'—নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের ওপর ঠান্ডা মাথায় চালানো নির্মম হিংসা। ২০২১ সালে নির্দোষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বিজেপিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। ২০২৬ সালে তাদের আরও অনেক বেশি চড়া মূল্য দিতে হবে। আর বাংলার বুকে ঘুরে বেড়ানো সেইসব 'জল্লাদদের' উদ্দেশে বলছি: আপনারা কোন রাজ্য থেকে এসেছেন, তাতে কিছু যায় আসে না। কার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আপনারা সুরক্ষিত আছেন, সেটাও কোনও বিষয় নয়। এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে জড়িত আপনাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। আপনাদের এই ত্রাসের রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটবে চরম ধ্বংসের মধ্য দিয়ে।"

অভিষেকের এই দাবির পরেই রাজনৈতিক চর্চা চরমে ওঠে। অনেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তেলেন। এনিয়ে মুখ খোলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এরপরেই ময়দানে নামে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (CEO West Bengal) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানায়, সত্য ঘটনাটি সম্পূর্ণ আলাদা। ওই মুহূর্তের বুথের ভিডিও প্রকাশ করে তারা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে ঢুকছেন বৃদ্ধ। হাতে কালি লাগানোর পর লাঠিতে ভর দিয়ে ইভিএম-এর দিকে একাই এগিয়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁর কোনও সমস্যা হচ্ছে আন্দাজ করে ছেলেও সেখানে যান। কীভাবে বোতাম টিপে ভোট দিতে হবে তা ছেলে তাঁকে দেখিয়ে দেন এবং ফের দূরে সরে আসেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইভিএমের কাছে পড়ে যান বৃদ্ধ। তাঁর ছেলে ও উপস্থিত ভোটকর্মীরা ধরাধরি করে তাঁকে বার করে নিয়ে যান। তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জেনারেল অবজার্ভারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কোনও ধস্তাধস্তি বা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেনি।

সিইও-র বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, "পূর্ণচন্দ্র দলুই ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে গিয়েছিলেন। শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রবীণ নাগরিক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। ইভিএম পর্যন্ত তাঁকে সাহায্য করার জন্য তাঁর ছেলেকে বুথের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। ভোট দেওয়ার পর বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার (হিট এক্সহশন) কারণে শ্রী দলুই ভোটকেন্দ্রের কাছে হঠাৎ জ্ঞান হারান। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সাধারণ পর্যবেক্ষক স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করেছেন যে ভোট দেওয়ার পরেই তিনি জ্ঞান হারান এবং তাঁর ছেলে বুথের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে কোনওভাবে হেনস্থা বা ধাক্কা দেওয়া হয়নি। সাহসী সিএপিএফ জওয়ানরা যখন পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে তাঁদের কঠিন দায়িত্ব পালন করে চলেছেন — প্রতিটি নাগরিকের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলা জুড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন — তখন তাঁরা আমাদের গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার যোগ্য, ভিত্তিহীন মিথ্যা বা রাজনৈতিকভাবে কলঙ্কিত প্রচারণার নয়। এটা হৃদয়বিদারক যে, একজন ৮২ বছর বয়সি শীর্ণকায় ব্যক্তির ভোটার হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এই শোকের মুহূর্তে, আসুন আমরা ন্যূনতম মানবিকতা দেখাই। যাচাইবিহীন দাবি ছড়ানো বন্ধ করুন, যা তাঁর স্মৃতিকে অসম্মান করে এবং তাঁর পরিবারকে কষ্ট দেয়। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা জীবনে সম্মান এবং মৃত্যুতে সত্যের দাবিদার। পূর্ণচন্দ্র দোলুইয়ের আত্মা শান্তিতে থাকুক। আমাদের সমবেদনা ও প্রার্থনা তাঁর শোকাহত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। গণতন্ত্র তথ্যের উপর ভিত্তি করে টিকে থাকে, ভীতি ছড়ানোর উপর নয়। সত্যের জয় হোক।"

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Weather News: ভোট গণনার দিনে ঝড়বৃষ্টি হবে? আজ কলকাতার তাপমাত্রা একঝটকায় কমল ৬ ডিগ্রি
WB Election 2026: বুথে বৃদ্ধর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা বলছেন অভিষেক, ভিডিও প্রকাশ করে প্রমাণ কমিশনের