
সোমবার সকালে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে তিস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এক মা হাতি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা তিস্তার প্রবল স্রোতে মায়ের পাশ থেকেই ভেসে যায় মাত্র তিন-চার দিনের ছোট্ট হস্তিশাবক।
প্রকৃতির ভয়াল রূপ আর মায়ের আকুতি, দুইয়ের সাক্ষী থাকল ডুয়ার্সের গজলডোবা। সোমবার সকালে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে তিস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এক মা হাতি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা তিস্তার প্রবল স্রোতে মায়ের পাশ থেকেই ভেসে যায় মাত্র তিন-চার দিনের ছোট্ট হস্তিশাবক। চোখের সামনে সন্তানকে ভেসে যেতে দেখে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে ডাকতে থাকে মা হাতিটি। এদিকে স্রোতের টানে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কাঠামবাড়ি এলাকার পাঞ্জাব বাঁধের কাছে নদীর গভীরে হাবুডুবু খেতে থাকে শাবকটি। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নজরে পড়ে যায় বিষয়টি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদপ্তরের কর্মীরা। শুরু হয় শাবকটিকে উদ্ধারের চেষ্টা। তবে শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল তিস্তায় নৌকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাঁচ মৎস্যজীবী,অজয় দাস, বাবলু দাস, গোপাল দাস, মিঠু দাস এবং বিশ্বনাথ দাস। প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে তাঁরা ছোট্ট হাতিটিকে নৌকায় তুলে আনতে সক্ষম হন। একদিকে তিস্তার ভয়াল স্রোত, অন্যদিকে মায়ের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি, সব মিলিয়ে গজলডোবার এই ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। মৎস্যজীবীদের এই সাহসিকতায় আপাতত প্রাণে বেঁচেছে ছোট্ট হস্তিশাবকটি।