বর্তমান ভারতে জেন জি-র বিপ্লব ও বিপ্লবী পুলিন বিহারী দাসের বর্তমান অবস্থান

Published : Aug 17, 2026, 07:01 PM IST
Gen Z revolution in present day India and the existence of the revolutionary Pulin Bihari Das in present day India

সংক্ষিপ্ত

আগামী কয়েকমাসে কলকাতায় কোনও বোমা পড়েনি। হানাহানি বা খুনোখুনি হয় নি। হবেই বা কেন! আমাদের দেশ এখন স্বাধীন।কলকাতা ভয় মুক্ত। ভরসা ইন ভয় আউট। মোদীজির ভারত ভাবনা "আজাদী কা মহোৎসব " এক জাগরণ বটে! সত্যি বলতে মানুষ এখন ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল হয়ে উঠছেন প্রযুক্তির কারণে। দিন দিন।।। কতো এগিয়ে ভারত, তাই নয় কি?

আগামী কয়েকমাসে কলকাতায় কোনও বোমা পড়েনি। হানাহানি বা খুনোখুনি হয় নি। হবেই বা কেন! আমাদের দেশ এখন স্বাধীন।কলকাতা ভয় মুক্ত। ভরসা ইন ভয় আউট। মোদীজির ভারত ভাবনা "আজাদী কা মহোৎসব " এক জাগরণ বটে! সত্যি বলতে মানুষ এখন ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল হয়ে উঠছেন প্রযুক্তির কারণে। দিন দিন।।। কতো এগিয়ে ভারত, তাই নয় কি? জেন জি'র এই প্রজন্মকে যদি জিজ্ঞেস করেন, একজন সুচিন্তকের নাম বলতে পারবে? সে দ্বিধাহীন হয়ে বলবে কেনাও জেমিনাই AI. আপনি ভাবতেই পারবেন না ভারতবর্ষ কোথায় পৌঁছেছে!! এই AI নির্ভর বাচ্চাটি বড় হয়ে কিছু একটা করবেই,..,এখন এটা মাথায় আমাদের কিছুতেই আসছে না, এই জেমেনাইশড AI, নির্ভর বাচ্চাটি বড় হয়ে কোন সার্কাসে কি খেলা দেখাবে ? এখন তো মাদারির খেলা অচল। সব অন লাইন গেমে মোটিভেটেড।

বেশ কিছু বছর পিছনে যদি আমরা ফিরে যাই যখন ভারতবর্ষ ডিজিটাল হয়নি। নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী নামের ব্যক্তিত্ব তখনও ভারতে জন্মায়নি । সেই সময় বাংলার কলকাতায় একজন বিখ্যাত মানুষ বাস্ করতেন। এই বিখ্যাত ভারতে তাঁর অবদানের ইতিহাস আজকের জেনজির জানা উচিত বলে মনে হয়। আজকের নতুন যারা বিপ্লব করবেন বলে স্যান্ডুইচ আর কোল্ড্রিংকস নিয়ে যন্তর মন্তর করার চেষ্টা করছেন ইদানিং কালে, আর যারা বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছেন যে দেশ এর উন্নতি স্বার্থে কোনও বুড়োর সঙ্গে আলোচনা করা যায় না কারণ তাদের সঙ্গে আলোচনায় ভাবনাগত বৈপ্লবিক ভাবনা চিন্তা কে নিশ্চিত করা যাবে না। আজকের তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি প্রগতিশীল আর উন্নত। আমার বার বার মনে হয়েছে তাদের ভাবনা আর আবেগের সামনে কোনও অদৃশ্য ক্ষমতা নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য ডায়নামাইটের দেওয়াল তুলে রেখেছে। আবার এটাও হতে পারে অর্ধ সত্য প্রাপ্য শিক্ষা জেমেনাইশড নবীন প্রজন্মের ভবিষ্যত গুলিয়ে দিচ্ছে না তো??

এমৎ অবস্থায় একজন বুড়োর গল্প বলা বেশ জরুরি বলে মনে করছি।।

কৈলাস বোস স্ট্রিটে একজন বছর পয়শট্টির বৃদ্ধ এক রাস্তার কল থেকে লোহার বালতি নিয়ে সকালে জল ভরছেন। তা দেখে পথ চলতি মানুষ এগিয়ে বলছেন, আরে আপনি করছেন কি ? বালতিটা আমায় দিন আমি বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। এটা নিত্য দিনের ঘটনা ছিলো তখন। কম কথা বলার এই মানুষটি সম্পর্কে কলকাতা ভুললেও ভারতের বিপ্লবের ইতিহাস ভোলেনি। আজ মনে হল সেই বিষয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।।

একজন মানুষের জন্মকাল মৃত্যুদিন দিয়ে অস্তিত্ব বিচার হয় না। বিচার হয় জীবনকাল দিয়ে। টাইম ট্রাভেলার তো সবাই হতে পারেন না। আর সব পাইলট অন্তরীক্ষে স্পেসসিপ্ নিয়ে যেতেও পারেন না। এর জন্য লাগে আত্মবিশ্লেষণ এবং অনুশীলন। নিজেকে চিনতে পারার জন্য স্বয়ং মহাদেবের তৃতীয় নয়নের উৎপত্তি। কথায় আছে " লজ্জা ঘৃণা ভয়, তিন থাকতে নয় " আসলে আমার মনে হয় " লজ্জা ঘৃণা ভয় / এই তিন থাকলেই হয় "।

এই তিন ভাইবোন আমাদের দর্শন, ভাবনা ও কৃতকর্মের প্রতীক। কৈলাস বোস লেনের কলকাতা নিজেই যেন এক স্বচিত্র ভারতের অবস্থান। নিঃশব্দে সারাদিন লেখালেখি করে যাচ্ছেন জনৈক্য ব্যক্তি। রাস্তার কল থেকে তোলা জলে স্নান করে পুজো শেষ হয়েছে। পড়ার ঘরে মেজেতে চাটাই পেতে বসেছেন লেখালেখি নিয়ে। সকালের টিফিন দিয়ে গেছে বাড়ির লোক। ভ্রূক্ষেপহীন হয়ে পড়ে চলেছেন আর পাশের রাখা খাবারের উপর দিয়ে আরশোলা চড়ে বেড়াচ্ছে সেই ব্যাপারে তাঁর খেয়ালই নেই। আরশোলা, পোকারা খাবারের গন্ধে আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুশকিল হল এই ব্যক্তিবিশেষকে কিছুতেই তারা মনোসংযোগ নষ্ট করতে পারছে না। পরাধীন ভারতে তখন ছয়, সাত কোটি জনসংখ্যা। তাদের জনাকয়েকের মনে হল এভাবে হচ্ছে না। আমাদের দেশের ধান আমাদের দেশের মানুষের অধিকার কেনও অন্য কেউ প্রথা মেনে শাসনের নামে অধিকার ফলাবে?

কৈলাস বোস লেনে থাকা ওই মানুষটির ইতিহাস স্বচিত্র ভারতের নিজের ইতিহাস। এই মানুষটি আসলে ভারতের কতিপয় বিপ্লবীদের একজন। তিনি এক ও একমাত্র বিপ্লবী পুলিন বিহারী দাস। বিপ্লব কোনও যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতা নয়। বিপ্লব এক অনন্য উপলব্ধি আর আত্মবিশ্লেষণের সূচক। বিপ্লবী পুলিন বিহারি দাস এক অনন্য সময়, সুচিন্তক ও বিপ্লবী। তিনি ফল্গু নদীর মতন। ভিতরে ভিতরে বহমান। এক দিকে পারধীন ভারতের মনোবল নড়ে গেছে, কিছু বাঙালি ইংরেজদের তাবেদার হয়ে উঠছে। স্বধর্ম হারাতে বসেছে। পুলিন বিহারী দাস বুঝতে পারলেন বিক্ষিপ্ত আন্দোলনের পথে না গিয়ে আন্দোলন বা বিপ্লব করার জন্য শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে ভারতকে মোটিভেট করা যাবে না। চারিদিকে তখন আন্দোলনের নামে বিক্ষিপ্ত খুন আর আরাজকতার পরিবেশ। বিপ্লবের নামে ইংরেজ খুন চলছে। পরাধীনতার শিক্ষা আদতে মিসিং লিংক তৈরি করে চলেছে তৎকালীন যুবসমাজে। তরুণ তাজা তুর্কিদের আত্মবলিদানের নামে অনেক কোল ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত ভারতমায়ের। পুলিন বিহারী দাস উপলব্ধি করছেন, এই তরুণ তুর্কি দের আর্মিবেস না তৈরি করলে ভারতে স্বাধীনতা সম্ভব নয়। কেন না ইংরেজরা ক্ষমতায় বড়, যুদ্ধে শক্তিতে তারা ডবল ইঞ্জিন।

এর জন্য দরকার শিক্ষা, চেতনা, স্বাস্থ ও পরিবেশ। দরকার এমন এক ইউনিট, যা দেশের বিক্ষিপ্ত যুবসমাজকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। নির্ভীক পুলিন বিহারী জন্ম দিলেন এমন এক বাঙালি ইউনিটের যা ইংরেজদের পরবর্তী সময়ে ঘুম কেড়ে নেবে। ঢাকায় জন্ম নিল " অনুশীলন সমিতির "। অনুশীলন ই একমাত্র পথ যা মহাভারতের যুদ্ধে পান্ডবদের জিততে সাহায্য করেছিলো। অবিভক্ত ভারতের সীমানা বরাবর যারা কোনওদিন কাঁটা তার চায়নি , এটা তার ইতিহাস। ভারতের বাইরে ভারতমহাদেশের শক্তির উত্থানের যে গল্প এটা সেই পুলিন বিহারী দাসের ইতিহাস।

"কেউ কেউ জন্মায় মরতে

কেউ কেউ পদলহনের জন্য

কেউ কেউ উদারতা বিক্রি ক'রে

ভারত ভক্তি কেনায়।।

কেউ কেউ লড়তে লড়তে মরে

কেউ কেউ চায় না শহীদ হতে

আমিত্বের গ্লাস ভরা জার্নিতে

দেশাত্ববোধ পায়চারি করে "

ভারত নদীমাতৃক দেশ। এই দেশের কারোর প্রতি দ্বেস কোনওদিন ছিল না। নইলে বিদেশি শক্তি এতগুলো বছর রাজত্ব করতে পারত না।

সমস্যা আসবেই

অচেনার হাতিয়ার করে নাও নিজেকে। নিজের অভিধানে খোঁজো পরিভাষা।

আদর্শ নাকি অস্তিত্ব?

বিল্পব নাকি সাম্রাজ্য?

আসলে নিজেকে খুঁজতে

চাইলে সব পাওয়া যায়...... "

**************

পরাধীন ভারতে বিপ্লবী পুলিন বিহারী দাস তৎকালীন জেনজি দের দলবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। এই জেনজিরা ছিলেন বিনয় বাদল দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন, বাঘা যতীন, পরবর্তী সুভাষ চন্দ্র বসুর মতোন স্বশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাসী ব্যক্তিত্বও কিন্তু প্রবীণ বিপ্লবীর উপর ভরসা ও বিশ্বাস রেখেছিলেন। আজ এই শূন্যদশকের জেন জি রা বুড়োদের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চাইছেন না এটা আমাদের ভারতের মানসিক স্বাস্থ্যের অবক্ষয়ের লক্ষণ।

Mr. Elmhurst রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে জানিয়েছিলেন " পুলিনবাবুর মতো দক্ষ ব্যক্তি সমগ্র ভারতবর্ষে দুর্লভ "..

শৃঙ্খলার ব্যাপারে পুলিন বিহারী দাস ছিলেন খুব নিষ্ঠাবান। ঠিক বিকেল চারটায় বঙ্গীয় ব্যায়াম সমিতির প্রবেশদ্বার টি খুলে অপেক্ষা করতেন নতুন স্বাধীন ভারতের জেনজিদের শারীরিক ও মানসিক কাঠামোগত দিক থেকে তৈরি করার প্রশিক্ষণ দিতে। বস্তুত তখন তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন। ১৯৪৯ সালের আজকের দিনে মানে ১৭ অগাস্ট তিনি একই কাজ করার সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যু কারোর আদর্শ কেড়ে নিতে পারে না একমাত্র আদর্শ আর নিষ্ঠা একজন বিপ্লবীর জন্ম দেয়।

পুলিন বিহারী দাস লিখে গেছেন " কোনও দেশই কোনও কালেই বাঁধা বাঁধা নিয়ম ব্যতিরেকে শক্তি সম্প্রদায় কিংবা সৈন্যদল গঠিত হয় নাই। এবং হইতেও পারে না "। প্রতিটি অঞ্চলের বিস্তৃত তথ্য ও মানচিত্র রচনার প্রতিও তিনি গুরুত্ব দেন ". মুজাফ্ফরপুরের ঘটনার অনেক আগেই বোমা তৈরির জন্য রাসায়নিক পুলিন বিহারী দাস ও তাঁর অনুগামীরা সংগ্রহ করেন। তিনি বার বার চেয়েছিলেন সংঘটিত বিপ্লব। যে ভাবনায় বোধকরি পরবর্তীতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু প্রভাবিত হয়ে রাতের অন্ধকারে কলকাতা ত্যাগ করেছিলেন।

সালকেল্ড স্বীকার করেন " অনুশীলন সমিতির ইতিহাস আদতে পুলিন বিহারী দাসের ইতিহাস " তৎকালীন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারকরা ঢাকা অনুশীলন সমিতিকে একটি বিল্পবী সমিতি বলে উল্লেখ করেন। পুলিন বিহারী দাস প্রথম ব্যক্তি যিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র পরাধীন ভারতবাসীকে এক নজরে নিরিখ করেছিলেন। এবং কেন মুসলিমদের ঢাকা অনুশীলন সমিতিতে ভর্তি করা যায় না তা "পরিদর্শক " অংশে পুলিন বিহারী দাস আলোচনা করেন। পুলিন বিহারী দাসের মানস সত্ত্বা গড়ে ওঠে হিন্দুধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাবে। তাঁর গুরু প্রমথনাথ মিত্রও ছিলেন গোঁড়া হিন্দু। তৎকালীন সময়ে সরকারের উৎসাহে ও ঢাকার নবাবের প্ররোচনায় ঢাকার 'গুন্ডা প্রকৃতির মুসলিমগণ " পুলিন বিহারী দাসের বাসা আক্রমণ করে। তাতে মুসলিমদের প্রতি মানসিক অবস্থা পুলিন বিহারী দাসের নষ্ট হয়। তথাকথিত যে ছাত্র আন্দোলনের পরিবেশ আমরা সারা ভারতে দেখতে পাচ্ছি সেই আনন্দনের পক্ষে ও ক্রান্তীকারী ভূমিকায় ছিলেন পুলিন বিহারী দাস।

**রাজনীতি করতে যারা*** আসেন

তারা স্বাধীনতা চান না।

রাজনৈতিক হস্তান্তর

কোনওদিন স্বাধীনতা না...

শাসক আর শাসনের লড়াই

ভারতের স্বাধীনতা না ".....

এ সময়ে একদিন মন্ত্রী সুরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঢাকার কমিশনার দার্জিলিং হতে একই ট্রেনে ফিরছিলেন। পথমধ্যে ক্থা প্রসঙ্গে কমিশনার একটু উদ্বেগের সঙ্গে বললেন, "পুলিন দাস ফিরিয়া আসিয়া ঢাকাতে এক ভাষণ দিয়া গিয়াছে। যুবকগনের সহিত আলোচনা করিয়াছে। ফলে ঢাকার ছাত্র এবং যুবকগনের মধ্যে একটু চাঞ্চল্যও জাগিয়া উঠিয়াছে "... সুরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, "সে সমন্ধে তোমাদের ভাবনার আর কোনও কারণ নাই। পুলিন আমাদের সঙ্গে সহযোগিতাই করিতেছে। এবং সে বিল্পবী পদ্ধতি পরিত্যাগ করিয়া সম্পূর্ণ রূপেই সৎনাগরিক হইয়া গিয়াছে। সেই সঙ্গে সুরন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় "নাগরিক সংরক্ষন সমিতির " বিবরণটি জানিয়ে দেন।

আসলে বিপ্লবী পুলিন বিহারী দাসের মতন অস্তিত্বরা মননে বাস্ করেন। যে কোনও দিন কোনও মুহূর্তে তিনি ফিরবেন। যতই চারিদিকে পুঞ্জিভূত হোক হতাশার আঁধার। কালের নিয়মে তিনি আবার ফিরবেন। তিনি আছেন আমাদের ভাবনায় আমাদের বিপ্লবের অংশ হয়ে।

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

শুভেন্দুর সরকার ১০০ দিনে কেমন কাজ করল, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বিনামূল্য বাস- এক নজরে মার্কশিট
Annapurna Yojana: ১৭ লক্ষ মহিলার অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল, টাকা পেতে এবার কী করবেন জানুন