
Governor RN Ravi:রাজ্যে কদিন পরেই বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা। তার আগে আচমকা রাজভবনে রদবদল। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় বাংলার নয়া রাজ্যপাল হচ্ছেন আর এন রবি। তিনি এখন ডিএমকে-কংগ্রেস জোট শাসিত তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। অতিরিক্ত দায়িত্বভার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হচ্ছেন সিবিআই ও আইবির এই প্রাক্তন কর্তা। ভোটের আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অফিসারকে রাজ্যপাল হিসাবে নিয়ে আসা একাধিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। রাজভবনের দায়িত্ব বদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় শুরু হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গের নয়া রাজ্যপালকে নিয়ে কিছু কথা।
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন আরএন রবি (R.N.Ravi)। তাঁর পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার থেকে রাজ্যপাল। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জেরেই জাতীয় রাজনীতিতে তিনি খুবই পরিচিত মুখ। ১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন রবি। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জনের পর অল্প সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৭৬ সালে কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। কেরল পুলিশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধ, বিশেষত খনি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্তে ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০১৪ সালে তাঁকে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তারপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হন। পরবর্তীতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-তে উচ্চপদে কাজ করে স্পেশাল ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর নেন (প্রায় ২০১৪-১৫ নাগাদ)। অবসর-পরবর্তী সময়েও তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা থেমে থাকেনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির (জেআইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (ডেপুটি এনএসএ) হিসেবেও কাজ করেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে নাগা শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেন।
২০১৯ সালের ১ আগস্ট নাগাল্যান্ডের ১৮তম রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য মেঘালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। এরপর ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তাঁকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১-এ চেন্নাইয়ের রাজভবনে তিনি ২৬তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন।
তামিলনাড়ুতে তাঁর কার্যকাল শুরু থেকেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভরা। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্য়ালিনের সরকারের সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে মতভেদ সামনে এসেছে। বিভিন্ন বিল বিশেষত নিট (NEET) ছাড় সংক্রান্ত প্রস্তাব, শিক্ষা সংস্কার বিল এবং উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কড়া মন্তব্য করে। বিশেষত পুনরায় গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বা অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে কিছু বিল কার্যকর বলে ঘোষণা করে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যালিন সরকারের বিরুদ্ধে নেওয়া রবির কিছু পদক্ষেপ প্রশংসিতও হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় ভাষণ না দিয়ে মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে আসেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, ভাষণে 'ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য' রয়েছে এবং জাতীয় সঙ্গীত সম্পর্কেও অসম্মান করা হয়েছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন ও শাসকদলের তরফে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানালেন, তিনি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। তৃণমূলের তরফে বিষয়টি রাজভবনে বদল নিয়ে মোদী সরকারকে নিশানা করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা এবং সময়মতো বিধানসভা ভোট করানোর বিষয়ে অমিত শাহের উদ্যোগে সায় না-দেওয়ার কারণেই কি সরে যেতে হল রাজ্যপাল বোসকে?"
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.