
ভাইয়ের সই জাল করে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লেনদেনের অভিযোগে কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম পবন ভীমসরিয়া। বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বড়বাজার থানার পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের খাতায় এতদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। যদিও পবনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দেরি করার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বাড়ি বা অফিসে থাকলেও পবনকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ। ধৃতকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হতে পারে। তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে পুলিশ।
মামলাটি ২০২৩ সালের। অভিযোগকারী সঞ্জয় ভীমসরিয়া ‘এম/এস এসডিবি ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অন্যতম ডিরেক্টর। ওই সংস্থার আরেক ডিরেক্টর পবন ভীমসরিয়া। কলকাতার এমজি রোডের ব্যাঙ্ক অব বরোদার একটি শাখায় কোম্পানির জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিচালিত হত। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনের জন্য দুই ডিরেক্টরেরই স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল।
সঞ্জয়ের অভিযোগ, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ওই জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক লেনদেন করা হয়। কিন্তু এই লেনদেন সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তাঁর দাবি, বিতর্কিত লেনদেন সংক্রান্ত কোনও চেক, ম্যান্ডেট বা ব্যাঙ্কিং নথিতে তিনি স্বাক্ষর করেননি বা অনুমোদন দেননি। এরপরই তিনি বড়বাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর ব্যাঙ্ক অব বরোদার এমজি রোড শাখায় থাকা এসডিবি ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট থেকে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার একাধিক অননুমোদিত লেনদেন হয়। তাঁর অজান্তে এবং সম্মতি ছাড়াই ওই লেনদেন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সঞ্জয়ের দাবি, কোম্পানির দুই ডিরেক্টরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকেই তিনি ওই অ্যাকাউন্টের কোনও চেকে বা নথিতে স্বাক্ষর করেননি।
অননুমোদিত লেনদেনের বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাঙ্ক অব বরোদার এমজি রোড শাখায় বিষয়টি জানান সঞ্জয়। কীভাবে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ওই লেনদেনগুলি সম্পন্ন হল, তা খতিয়ে দেখতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে অভ্যন্তরীণ তদন্তের আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অননুমোদিত লেনদেন না হয়, সে জন্য অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করারও অনুরোধ জানান। তবে সঞ্জয়ের অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে চাননি। পরে ব্যাঙ্কের তরফে একটি চেক দেখানো হয়। ওই চেকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রাপককে টাকা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। সঞ্জয়ের অভিযোগ, তাঁর সই জাল করেই ওই লেনদেন করা হয়েছে। সঞ্জয়ের আরও অভিযোগ, পবন ভীমসরিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাঙ্কের কয়েকজন আধিকারিক তাঁর সম্মতি ছাড়াই কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের বিষয়।
পুলিশের বিরুদ্ধেও তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, পবন নিজের বাড়ি বা অফিসে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পুলিশের খাতায় পলাতক দেখানো হয়েছিল। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক জায়গায় চিঠি লেখেন তিনি। সঞ্জয়ের আরও দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পবনের যোগাযোগ রয়েছে এবং এলাকায় তাঁর যথেষ্ট প্রভাবও রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এতদিন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সঞ্জয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার রাতে পবন ভীমসরিয়াকে গ্রেফতার করে বড়বাজার থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হতে পারে। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.