
মালদার হিংসার ঘটনায় এবার তদন্তে নামল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA। বুধবার কালিয়াচক-২ ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসের দুটো গেট আটকে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ দেখায়। অফিসের কর্মীদের, এমনকি সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা 'বন্দি' করে রাখা হয়। মাঝরাতের পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাতেই NIA একটি "প্রাথমিক অনুসন্ধান" বা "preliminary enquiry" দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন (ECI) একটি চিঠি দিয়ে NIA-এর ডিরেক্টর জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি এই পদক্ষেপ করে। আসলে, তার আগেই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে বলেছিল, এই ঘটনার তদন্ত CBI বা NIA-র মতো কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে করাতে হবে। শীর্ষ আদালত এই হামলাকে "পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত" বলে উল্লেখ করে। আদালতের মতে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তাঁদের কাজে বাধা দেওয়ার জন্যই এটা করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত আরও বলে, এই ধরনের ঘটনা "কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না"। একইসঙ্গে, ওই অফিসার ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
NIA-র একটি টিম আজ যে কোনও সময়ে মালদায় পৌঁছতে পারে। সংস্থাটি সরকারিভাবে কিছু না জানালেও, সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা অফিস থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মালদায় পৌঁছে তারা প্রথমে স্থানীয় থানায় যাবে। কারণ, এখনও পর্যন্ত পুলিশই এই মামলার তদন্ত করছিল। পুলিশি তদন্তের সমস্ত তথ্য তারা সংগ্রহ করবে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোথাবাড়ির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি বা Maulana Shahjahan Ali এবং এই ঘটনার মূলচক্রী বলে অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কুলুর ইসলাম Mofakkarul Islam।
হিংসা, অগ্নিসংযোগ এবং সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে (যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা) আট ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত ১৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে শাহজাহান আলি-সহ ১৮ জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ১৯ তম অভিযুক্ত মোফাক্কারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ CID। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে ধরা হয়।
সূত্র অনুযায়ী, একজন ডিআইজি (Deputy Inspector General) পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই তদন্ত চালাবে। পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন একজন আইজি (Inspector General) পদমর্যাদার অফিসার। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বুধবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিল এবং সরতে রাজি ছিল না। গভীর রাত পর্যন্ত এই ঘেরাও চলে। শেষে মাঝরাতের পর আইনরক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধার করা হয়। NIA এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র বা সংগঠিত চক্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং এত বড় জমায়েতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় আরও বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না হয়। কর্তৃপক্ষ ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে যাতে বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়। উত্তরবঙ্গের মালদা জেলায় আগেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, যার কারণ মূলত স্থানীয় ক্ষোভ বা প্রশাসনিক সমস্যা। কিন্তু বুধবারের বিক্ষোভের মাত্রা এবং জুডিশিয়াল অফিসারদের আটকে রাখার ঘটনা প্রশাসনকে উদ্বিগ্ন করেছে।
এই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, শাসক দল সংযম বজায় রাখার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, NIA-র প্রাথমিক অনুসন্ধানের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত, কালিয়াচক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.