
Rudranil Ghosh Shibpur: দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থেকে একবারে সোজা হাওড়ার শিবপুর। আরও একটা 'পুর'-এ নির্ধারিত হবে বিজেপির নেতা-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের ভাগ্য। ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রুদ্র সোশ্য়াল মিডিয়ায় দলের হয়ে ভাল কাজ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কটাক্ষ করে রুদ্রর কবিতা, কথা দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ায়, লড়াইয়ের রসদ জোগায়। দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় যানও টলিউডের তারকা অভিনেতা। তবে নির্বাচনে এখনও সাফল্য মেলেনি। গতবার দলের পক্ষে কিছুটা অনুকূল পরিস্থিতির ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়েন রুদ্রনীল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেবার নন্দীগ্রাম থেকে লড়ায়, তৃণমূলের হয়ে ভবানীপুরে দাঁড়ান বর্ষীয়ান নেতা শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। ভোট প্রচারে বেশ পরিশ্রম করেন রুদ্র। তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার ভোটে হারেন বিজেপির এই তারকা অভিনেতা-নেতা। শোভন দেব যেখানে ৫৮ শতাংশ ভোট পান, সেখানে রুদ্র ৩৫ শতাংশে আটকে যান।
সেই রুদ্র এবার লড়বেন হাওড়ার শিবপুরে। নিজের ভোটকেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন তিনি। ঘরের ছেলে হয়ে ভোটে দাঁড়ানোকে বাড়িতে অক্সিজেন ব্যাখা করে রুদ্র বলেন, "এটা বোধহয় আমার কাছে বাড়তি অক্সিজেন সিলিন্ডার। কারণ এরা আমার কাছে কেউ ভোটার নন, কেউ কাকু, কেকু জেঠু...।" শিবপুরে ভোটের ময়দানে রুদ্র-র প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রার্থী রানা চ্য়াটার্জি। বাম জোটের দল ফরওয়ার্ড ব্লক এখানে প্রার্থী করেছে জগন্নাথ ভট্টাচার্য-কে। রুদ্র-র প্রতিপক্ষ তৃণমূলের ডক্টর রানা চ্য়াটার্জি গতবার বালি বিধানসভা থেকে বিজেপির বৈশালী ডালমিয়াকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার রাজ্যের বিদায়ি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারিকে টিকিট না দিয়ে বালির বিদায়ি বিধায়ক রানাকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। রানা বনাম রুদ্র-র দিকে চোখ গোটা রাজ্য়ের।
শিবপুরের রাজনীতি মানেই জটু লাহিড়ি। এখান থেকে ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়ে জিতে শুরু করা জটু লাহিড়ি মোট পাঁচবার বিধায়ক ছিলেন। একমাত্র ২০০৬ বিধানসভা ছাড়া, বারবার জিতে এসেছেন। ২০২১ সালে প্রথমবার তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। টিকিট না পেয়ে জটুর বিদ্রোহ অস্বস্তিতে রাখলেও তাঁর জায়গায় মনোজ তিওয়ারিকে দাঁড় করিয়ে অনায়াসেই জিতেছিল রাজ্যের শাসক দল। ২০২৩ সালে প্রয়াত হন জটু লাহিড়ি। জটুর প্রয়াণের পর এই প্রথম শিবপুরে বিধানসভা নির্বাচন। অঘটনের আশায় বিজেপি। মার্জিন বাড়িয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শাসক দল।
শিবপুরে গত পাঁচবারের মধ্যে চারবারই জিতেছে তৃণমূল। একমাত্র ২০২৬ বিধানসভায় ফরওয়ার্ড ব্লকের জগন্নাথ ভট্টাচার্য হারিয়েছিলেন তৃণমূলের জটু লাহিড়িকে হারিয়েছিলেন। সেই শেষবার। এরপর ২০১১ ও ২০১৬-তে তৃণমূলের টিকিটে শিবপুরে জটু লাহিড়ি অনায়াসে হারান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরওয়ার্ড ব্লকের জগন্নাথ ভট্টাচার্যকে। ২০২১-এ মনোজ তিওয়ারি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। এই কেন্দ্রে বিজেপির ভোট পাঁছ বছরের মধ্য়ে ২৫ শতাংশ বাড়ে, সেখানে বামেদের ভোট কমে প্রায় ২৩ শতাংশ। গতবার মনোজের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছিল রথীন চক্রবর্তী-কে।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হাওড়া কেন্দ্রের অধীনে থাকা শিবপুর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রসূণ ব্য়ানার্জি ৭৯ হাজার ৪৬৪টি ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে বিজেপির রথীন চক্রবর্তী পান ৬৫ হাজার ২৫৮টি ও সিপিএমের সব্যসাচী ভট্টাচার্য ২৬ হাজার ১৭১টি ভোট পান। তার মানে লোকসভায় শিবপুরে তৃণমূলের লিড ছিল ১৪ হাজারের বেশি ভোটের। কিন্তু সিপিএমের ভোট সেখানে ছিল ২৬ হাজার। গত বিধানসভাতেও বামেদের এখানে ২৪ হাজারের মত ভোট ছিল। ২০২১ থেকে তিন বছরের মধ্য়ে তৃণমূলের ভোট কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
তৃণমূলের মনোজ তিওয়ারি প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান বিজেপির রথীন চক্রবর্তী-কে। মনোজের প্রার্থীপদ নিয়ে শিবপুরে সেবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল। তার মধ্যেও ৫০.৬৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন মনোজ। বিজেপি প্রার্থী রথীন চক্রবর্তী ৩৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২১-এর মধ্যে শিবপুরে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট মোটের ওপর একই ছিল।
বলা কঠিন। এসআইআরের পর ভোটের অঙ্ক জটিল হয়েছে। তবে একথাটা বলা যায়, ১৫ বছর ধরে একটানা তৃণমূল ক্ষমতায় থাকা শিবপুরে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে। মনোজ তিওয়ারি পাঁচর বিধায়ক থেকে শিবপুরের জন্য কিছুই করেননি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। নিকাশী ব্যবস্থার সমস্যা, রাস্তা খারাপের সমস্যা, বেকার সমস্য়া শিবপুরের ভোটের বড় ইস্য়ু। এখন প্রশ্ন এখান থেকে কি রুদ্রনীল পারবেন বিধায়ক হতে? এর সোজা উত্তর, তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে সরাসরি ধস নামাতে হবে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.