Published : Feb 25, 2026, 09:46 PM ISTUpdated : Feb 25, 2026, 09:48 PM IST
বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়তে চলেছে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে জোর লড়াই হতে চলেছে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বরাবরই বেশ কয়েকটি চমক দেখা যায়। দেখা যায় বড় কোনও অঘটন। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, সাম্প্রতিককালে হওয়া বঙ্গ বিধানসভা ভোটে চমকপ্রদ দশটি জয়।
West Bengal Assembly Elections: পশ্চিমবাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে বড় জয়টা ২০২১ বিধানসভা থেকে পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। গোটা রাজ্যে জয় পেলেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু নিজেকে নন্দীগ্রামের রাজা হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করে। নন্দীগ্রামের জয় শুভেন্দুকে রাজ্য রাজনীতিতে অনেকটা মজবুত আসনে বসিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে তথাকথিত ছোট দলগুলি তেমন কিছু করতে পারে না। এই মিথ ভেঙে ২০২১ ভোটে ভাঙড়ের মত কঠিন কেন্দ্রে জিতে বিধানসভায় পা রেখেছিল নতুন দল ইন্ডিয়ার সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। ভোটের মুখে নতুন দল খুলে, কোনও রকম নির্দিষ্ট প্রতীক ছাড়াই লড়ে ভাঙড়ে তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিধায়ক হন আইএসএফের নওসাদ সিদিক্কি। ভাঙড়ে তৃণমূলের রিয়াজুল করিমকে প্রায় ২৬ হাজার ভোটে হারিয়ে অঘটন ঘটান নওসাদ।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি তিনটি আসনে জেতে। তার মধ্য়ে খড়গপুর সদরে বিজেপির দিলীপ ঘোষের জয়টা একবারে স্মরণীয়। খড়গপুরের অত্যন্ত পছন্দের কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহন পালকে হারিয়ে বিধায়ক হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এই জয় দিলীপকে পরবর্তীকালে বঙ্গ বিজেপিতে সিংহাসন এনে দিয়েছিল। এই জয় বিজেপিকে বাংলাকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহী করে তোলে।
মেদিনীপুরে তখন তৃণমূলের ঝড় চলছে। 'লালগড়' ভেঙে তখন মেদিনীপুরে তখন একশোয় একশোর স্বপ্নে বুঁদ তৃণমূল। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে দিদি ঝড়ের মাঝে সবংয়ে অসাধারণ জয় ছিনিয়ে নেন সেই সময় কংগ্রেসে থাকা মানস ভুঁইয়া। তবে এক বছরের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে চলে যান মানস, ২০১৭ উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে সবং থেকে জেতেন তাঁর স্ত্রী গীতা রানী ভুঁইয়া।
রাজ্যে সিপিএমের শেষ স্মরণীয় জয় বলা যায়। বেলঘরিয়ায় তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে হারিয়ে দেন সিপিএমের দাপুটে নেতা মানস মুখোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগণার প্রায় সর্বত্র তৃণমূল জিতলেও বেলঘরিয়া ফিরে পায় বামেরা। সেবার যাদবপুরে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীর জয়টাও চমকের তালিকায় রাখা যায়। (ছবিতে মদন মিত্র)
711
৭) দেবশ্রী রায় (রায়দিঘি, তৃণমূল, ২০১১ ও ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন)
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগণার রায়দিঘিতে সিপিএমের মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলির হারটা বেশ চমকের ছিল। মাটির নেতা, স্থানীয়দের বিপদে পাশে দাঁড়ানো কান্তিকে হারিয়ে দেন টলিউডের তারকা অভিনেত্রী থেকে তৃণমূল নেত্রী হওয়া দেবশ্রী রায়। পাঁচ বছর পর আরও বড় চমক। রায়দিঘির মানুষের পাশে সেভাবে না থেকেও সেখানে ফের কান্তি গাঙ্গুলিকে হারিয়ে দেন দেবশ্রী। যদিও ২০১৬ বিধানসভায় দেবশ্রীর জয়ের ব্যবধান সাড়ে ১৩ হাজার থেকে হাজার খানেকে নেমে এসেছিল।
৯) স্বাধীন কুমার সরকার ( বৈষ্ণবনগর, বিজেপি, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন)
মালদায় বিজেপির বিজয়রথের শুরুটা হয়েছিল ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বৈষ্ণবনগরে স্বাধীন কুমার সরকারের জয় দিয়ে। পরবর্তীকালে মালদা সহ বিজেপির শক্তিশালী হওয়ার পিছনে ২০১৬ বৈষ্ণবনগরের জয়টা বেশ বড় ভূমিকা নেয়।
1011
১০) মনোজ চক্রবর্তী (বহরমপুর, নির্দল, ২০০৬ বিধানসভা নির্বাচন)
২০০৬ বিধানসভা নির্বাচনে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নির্দেশে কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে গিয়ে বহরমপুর বিধানসভা থেকে নির্দল প্রার্থী হয়ে লড়েছিলেন মনোজ চক্রবর্তী। অবাক করা কথা হল, নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে বহরমপুরে কংগ্রেস ও বাম প্রার্থীকে ধরাশায়ী করে জয়ী হন মনোজ। নির্দল হয়ে দাঁড়িয়ে অধীরের প্রার্থী পেয়েছিলেন প্রায় ৯৫ হাজার ভোট, সেখানে কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ে মায়ারানী পান মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার ভোট। পরে কংগ্রেসে ফেরেন মনোজ। বঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে নির্দল প্রার্থী হয়ে জেতার নজির তেমন একটা নেই।
1111
স্মরণীয় জয়: এছাড়াও যারা
এছাড়াও ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান পূর্বে সিপিএমের মন্ত্রী নিরুপম সেনকে হারান তৃণমূলের রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে তৃণমূলের মাস্টার মশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, ২০১৪ বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির শমিক ভট্টাচার্যর জয়টাও বেশ স্মরণীয় বা চমকের বলা যায়।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.