
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের তিনটি নীতি- ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট। অর্থাৎ চিহ্নিত করা, এদেশের সরকারি খাতা থেকে তার নাম মুছে দেওয়া আর তৃতীয় সংশ্লিষ্টকে তড়িঘড়ি তার দেশে পাঠিয়ে দেওয়া। আর অনুপ্রবেশ রুখতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এবার একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হোন্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজ্য সরকারের তরফে বলা হয়েছে জেলায় জেলায় ডিটেনশন সেন্টারের আদলে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। ২০২৪ সালের পর যারা অবৈধভাবে কাঁটাতার পেরিয়ে এদেশে ঢুকেছে তাদের চিহ্নিত করেই এই হোল্ডিং সেন্টার রাখা হবে। এছাড়া একই অভিযোগে এতদিন যারা কারাবন্দি ছিল তাদেরও একইভাবে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হবে। সেখান থেকেই তাদের নিজনিজ দেশে ফেরত পাঠান হবে। শুভেন্দু আগেই জানিয়েছিলেন অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড়ের পরে কোনও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে না। সেইমত রাজ্য সরকারের নির্দেশিকাতে বলা বয়েছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরে বিএসএফ প্রথমে তাদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখবে। তারপর সেখান থেকেই তাদের সোজা ওপারে পুশব্যাক অর্থাৎ ফেরত পাঠান হবে।
সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, এ বার তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে। শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফেও নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হল।
'বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের যাঁরা এ রাজ্যে বেআইনি ভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। জেলাগুলিতে তার জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং এ রাজ্যের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য এই সমস্ত সেন্টার ব্যবহার করা হবে। সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।' এই বিজ্ঞপ্তি রাজ্য পুলিশের ডিজি, পুলিশ সুপার, জেলা শসাকের কাছে পৌঁছে গেছে। কলকাতা-সহ প্রত্যেক পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারদের কাছেও পাঠান হয়েছে এই নির্দেশিকা।
২০২৫ সালেই কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যগুলিকে নোটিস দিয়ে ডেটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, 'বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। এখান থেকে কাউকে তাড়ানো হবে না। সবাই নাগরিক।' মমতার বিজেপি বিরোধিতার কারণেই বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার পালাবদল হতেই বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্পের আদলেই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.