ED Raids IPAC: শুক্রবার দুপুর ২টো! I-PAC কাণ্ডে পথে নামবেন খোদ মমতা

Published : Jan 08, 2026, 06:14 PM IST
Mamata Banerjee MGNREGA protest

সংক্ষিপ্ত

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-র দফতরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও।

আইপ্যাক-র (I-PAC) অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র (ED) তল্লাশির প্রতিবাদে এবার নিজেই পথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতায় মিছিল করবেন তিনি। যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল হবে। মিছিলে উপস্থিত থাকেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এছাড়াও থাকবেন কলকাতা কর্মী ও সমর্থকরা। মিছিল শুরু হবে দুপুর ২টোয়। বৃহস্পতিবার ইডি অভিযানের প্রতিবাদে জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল করেছে তৃণমূল। তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেই প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দেন সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিসের বেসমেন্ট থেকে। তখনও সেই অফিসে ছিলেন ইডি আধিকারিকরা।

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-র দফতরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। ওই তল্লাশির মধ্যেই দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে। সেখানে এই তল্লাশি অভিযানকে ক্রাইম বলে অভিহিত করেন। মমতা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, 'আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে রেড করি তাহলে কেমন হবে?' এরপর সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরেও যান মমতা। বিকেল ৪টের পরে প্রতীক জৈন আসা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। মাঝে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইডি, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বাদ যাননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখান থেকেই দলীয় নেতৃত্বকে জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিলের নির্দেশ দেন। নেত্রীর নির্দেশ মেনে প্রায় প্রতিটি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল করেছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। এবার নিজেও পথে নামার কথা জানিয়েছেন মমতা।

তবে, মমতার অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে ইডি-র তরফেও। বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী জোর করে নথি তুলে নিয়ে গিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযান। পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় (মোট ১০টি জায়গায়) বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি চলছে। তারা আরও দাবি করে সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে দু’টি জায়গা থেকে তল্লাশির মধ্যেই নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, 'ইডি সদর দফতরের একটি ইউনিট পিএমএলএ-এর অধীনে ১০টি ঠিকানায় (পশ্চিমবঙ্গে ৬টি এবং দিল্লিতে ৪টি) তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান অনুপ মাজি পরিচালিত কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা পশ্চিমবঙ্গের ইসিএল-এর লিজপ্রাপ্ত এলাকা থেকে কয়লা চুরি ও অবৈধভাবে উত্তোলন করত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কর্মী এবং রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আগে পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। এরপর তাঁরা দুটি ঠিকানা থেকে জোরপূর্বক নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে যান। এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, এই তল্লাশি প্রমাণ-ভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়। কোনও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানেরই একটি অংশ। এই তল্লাশি প্রতিষ্ঠিত আইনি সুরক্ষাবিধি কঠোরভাবে মেনে পরিচালিত হচ্ছে।'

ইডি-র তরফে এই বিষয়টিও বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এরপর মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহর আই-প্যাকের কার্যালয়ে যায়, যেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগীরা এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোরপূর্বক নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে যান। এই পদক্ষেপের ফলে পিএমএলএ-এর অধীনে চলমান তদন্ত ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।'

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Suvendu Adhikari: ‘অনেক চুরি দেখেছি কিন্তু ফাইল চুরি এই প্রথম!’ মমতাকে ধুয়ে দিলেন শুভেন্দু
'ধূপগুড়ির বিধায়ক অপদার্থ,' প্রকাশ্যে তোপ তৃণমূল কংগ্রেস জয় হিন্দ বাহিনীর নেতা তাপস করের