
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দানে নামলেন। তিনি সোনামুখী, নন্দকুমার এবং কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি বড় জনসভায় ভাষণ দেন। এই সভাগুলো থেকে তিনি কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
যোগী আদিত্যনাথ তৃণমূলের বিখ্যাত ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "আজ বাংলায় মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন, মাটি অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে যাচ্ছে আর সাধারণ মানুষ ভয়ে, অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন।" তিনি আরও বলেন, তৃণমূল আর বামপন্থী গুন্ডাদের একটাই ওষুধ আছে, আর সেটা হল বিজেপি সরকার। তাঁর মতে, TMC মানে তুষ্টিকরণ, মাফিয়ারাজ আর কাটমানি।
যোগী অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে হিংসার ঘটনা অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, "বিজেপি কর্মী সুমনকে গুলি করা হয়েছে, সুশোভনের হাত কেটে নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মীর বাড়িঘরও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।" তাঁর কথায়, বাংলায় এমন অনেক উদাহরণ এখন হামেশাই দেখা যাচ্ছে।
তিনি বাংলার মানুষের কাছে আবেদন করে বলেন, "কেন্দ্রে যেমন নরেন্দ্র মোদীর সরকার আছে, তেমনই রাজ্যেও বিজেপির সরকার তৈরি করুন।" তিনি আশ্বাস দেন যে, ডবল ইঞ্জিন সরকার দাঙ্গাবাজ ও গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।
যোগী আদিত্যনাথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, "বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হিংসার ঘটনায় উনি একদম চুপ করে ছিলেন।" তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্যই মমতা এই নীরবতা পালন করেছেন। এর পাশাপাশি, তিনি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কথা বলেন এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলার বর্তমান অবস্থা বেশ চিন্তার। এই রাজ্য একটা সময় ভারতের অর্থনীতি আর শিল্পের বড় কেন্দ্র ছিল। কিন্তু কংগ্রেস, বামফ্রন্ট আর তৃণমূল সরকার একে দুর্বল করে দিয়েছে।" তিনি কৃষকদের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করে বলেন, এখানকার কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "উত্তরপ্রদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকরি পেয়েছেন, আর বাংলায় একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, চাকরির সুযোগ কমছে।" তিনি তৃণমূল সরকারকে প্রশ্ন করেন, "গত ১৫ বছরে কতজন যুবক-যুবতীকে চাকরি দিয়েছেন?"
তিনি বলেন, "৯ বছর আগে উত্তরপ্রদেশের অবস্থাও অনেকটা বাংলার মতোই ছিল। কিন্তু এখন সেখানে আইন-শৃঙ্খলা অনেক ভালো।" তিনি তাঁর রাজ্যের ‘নো কার্ফু-নো দাঙ্গা’ মডেলের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইউপি এখন দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
কলকাতার মেয়রের একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যোগী বলেন, "বাংলায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে দুর্বল হতে দেওয়া হবে না। এখানে বাংলাই বলা হবে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সম্মান করা হবে।"
তিনি বলেন, "উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার শুধু উন্নয়নের কাজেই লাগে না, এটা মাফিয়া আর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেয়।" তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বাংলাতেও নেওয়া হতে পারে।
যোগী আদিত্যনাথ অযোধ্যায় তৈরি হওয়া বিশাল রাম মন্দিরের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এটা রামভক্তদের আস্থার প্রতীক।" তিনি বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করার অভিযোগও তোলেন।
তিনি তাঁর ভাষণে ক্ষুদিরাম বসু, সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "বাংলার এই গৌরবময় ঐতিহ্য আজও আমাদের প্রেরণা দেয়।"
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, "বাংলা এখন পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।" তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন আনবেন এবং বাংলাকে আবার উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, "যেখানেই বিজেপির সরকার আছে, সেখানেই উন্নয়ন, সুরক্ষা আর চাকরির সুযোগ বেড়েছে।" তিনি বাংলার ভোটারদের বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য আবেদন জানান।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.