
গাড়ি কেনার বাজেট ঠিক করার সময়, অনেকেই শুধু শোরুম প্রাইস আর ইএমআই-এর হিসেব কষেন। কিন্তু গাড়ি রাস্তায় নামার পর তেল, সার্ভিসিং, টায়ার বদল, ব্যাটারি, ইনস্যুরেন্স এবং হঠাৎ মেরামতির খরচগুলো পকেটে টান ফেলে। তাই কম দামের পাশাপাশি মেইনটেন্যান্স খরচ কম, এমন গাড়ি বাছা খুব দরকার। ১০ লাখ টাকার মধ্যে গাড়ি কিনতে চাইলে মারুতি সুজুকি অল্টো কে১০, মারুতি সুজুকি ওয়াগনআর এবং টাটা টিয়াগো— এই তিনটি মডেল দেখতে পারেন। ছোট গাড়ি খুঁজলে অল্টো কে১০, পরিবারের জন্য একটু বেশি জায়গা চাইলে ওয়াগনআর আর দারুণ ডিজাইন ও ফিচারের জন্য টিয়াগো সেরা অপশন। তবে শুধু জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে মেইনটেন্যান্স খরচ মাপা যায় না। সার্ভিস শিডিউল, ওয়ারেন্টি, পার্টসের দাম আর কাছাকাছি সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, সেগুলোও মিলিয়ে দেখা উচিত।
মারুতি সুজুকির ছোট গাড়ির লাইনআপে অন্যতম জনপ্রিয় নাম অল্টো কে১০। কোম্পানির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৩.৭০ লাখ টাকা থেকে। টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৫.৪৫ লাখ টাকা। এতে ১.০ লিটার পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে। কিছু ভ্যারিয়েন্টে অটোমেটিক গিয়ারের সুবিধাও পাবেন। রোজ বেশি যাতায়াত থাকলে সিএনজি মডেলটিও দেখতে পারেন, এতে তেলের খরচ অনেকটাই বাঁচবে। সাইজে ছোট হওয়ায় শহরের ভিড় রাস্তায় চালানো এবং পার্কিং করা বেশ সহজ। সুরক্ষার জন্য এতে ৬টি এয়ারব্যাগ, এবিএস এবং রিয়ার পার্কিং সেন্সরের মতো ফিচার রয়েছে। তবে ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী, ফিচার বদলাতে পারে। মেইনটেন্যান্স খরচ বুঝতে ডিলারের কাছ থেকে প্রথম কয়েক বছরের সার্ভিসিং চার্জ জেনে নেওয়া ভালো। কারণ টায়ার, ব্যাটারি বা ইনস্যুরেন্সের খরচ রেগুলার সার্ভিসের মধ্যে পড়ে না।
পরিবারের ব্যবহারের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন। ছোট গাড়ি হলেও ভেতরে বেশ ভালো স্পেস রয়েছে। তাই যারা একটু বেশি জায়গা চান, তারা মারুতি সুজুকি ওয়াগনআর দেখতে পারেন। এটির টল-বয় ডিজাইনের জন্য গাড়িতে ওঠা-নামা করা বেশ সুবিধাজনক। মারুতি সুজুকির অফিশিয়াল দামের তালিকা অনুযায়ী, ওয়াগনআর-এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৪.৯৯ লাখ টাকা থেকে। পেট্রল ও সিএনজি— দুটি অপশনই রয়েছে। মারুতির সার্ভিস নেটওয়ার্ক অনেক বড় হওয়ায় মেইনটেন্যান্সের জন্য বেশি দূরে যেতে হয় না। তবে সব শহরে সার্ভিসিং চার্জ এক হয় না। গাড়ির বয়স, কতটা চলেছে এবং কী কী পার্টস বদলাতে হবে, তার ওপর খরচ নির্ভর করে। যারা গাড়িটি অনেক দিন ব্যবহার করার কথা ভাবছেন, তাদের আগে থেকেই সার্ভিসিং খরচ আর ওয়ারেন্টির সুবিধাগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।
সুরক্ষা এবং ফিচারের দিক থেকে টাটা টিয়াগো একটি দারুণ ছোট হ্যাচব্যাক। ১০ লাখ টাকার মধ্যে গাড়ি কিনতে চাইলে এর ডিজাইন আর কেবিন স্পেস আপনাকে আকর্ষণ করবে। টাটা মোটরসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, টিয়াগোর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৪.৭৭ লাখ টাকা থেকে। ভ্যারিয়েন্ট আর ইঞ্জিন অনুযায়ী, দাম কিছুটা বদলাতে পারে। এতে পেট্রল ও সিএনজি অপশনের পাশাপাশি অটোমেটিক গিয়ারের সুবিধাও রয়েছে। গাড়ি কেনার আগেই কাছাকাছি কোনো অথরাইজড সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে রেগুলার সার্ভিসিং চার্জ, ওয়ারেন্টি আর পার্টসের দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো। গাড়ির বিল্ড কোয়ালিটি মজবুত হলেও টায়ার, ব্রেক প্যাড বা ব্যাটারির মতো জিনিসগুলো সময়মতো বদলাতে হয়। তাই অল্টো কে১০ বা ওয়াগনআর-এর সঙ্গে তুলনা করার সময় টিয়াগোর মেইনটেন্যান্স খরচটাও মাথায় রাখা জরুরি।
আপনার জন্য কোন গাড়িটি সেরা? কম দাম আর শহরের রাস্তায় চালানোর সুবিধার কথা ভাবলে অল্টো কে১০ বেছে নিতে পারেন। পরিবারের জন্য বেশি জায়গা দরকার হলে ওয়াগনআর দারুণ অপশন। আর ডিজাইন ও ফিচারের দিকে নজর থাকলে টিয়াগো দেখতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তেলের খরচটা একবার মিলিয়ে নিন। ডিলারের কাছ থেকে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের রেগুলার সার্ভিসিংয়ের একটা আনুমানিক হিসাব চেয়ে নিন। এর সঙ্গে টায়ার বদল, ইনস্যুরেন্স, সিএনজি মেইনটেন্যান্স আর লোনের সুদের হিসাবটাও মাথায় রাখুন। ইন্টারনেটে দেওয়া মেইনটেন্যান্স খরচের হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হয় না। আপনার চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা আর সার্ভিস সেন্টারের ওপর খরচ নির্ভর করে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনের কথায় না ভুলে, লিখিত সার্ভিস এস্টিমেট দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।