
Car Driving: কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু... বর্ষা এলেই রাস্তা ডোবে। আর গরমের হাত থেকে বাঁচতে আমরা এসি ফুল স্পিডে চালিয়ে দিই। কিন্তু এই একটা ছোট অভ্যাস আপনার গাড়ির ইঞ্জিন শেষ করে দিতে পারে।
আপনার গাড়ির এসি-র সাথে একটা "কনডেন্সার ফ্যান" আর "এয়ার ইনটেক" থাকে। যা সাধারণত গাড়ির সামনের বাম্পারের নিচে থাকে।
জলজমা রাস্তায় যখন আপনি এসি চালান, তখন ২টো জিনিস একসাথে হয়:
১. *ফ্যান জোরে ঘোরে:* এসি চালালে রেডিয়েটর ফ্যান জোরে ঘুরতে থাকে।
২. *সাকশন তৈরি হয়:* এই ফ্যান জলজমা রাস্তার জলকে জোরে টেনে সোজা ইঞ্জিনের এয়ার ইনটেকে ঢুকিয়ে দেয়।
যার ফলে Hydrolock বা Water Ingestion। ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে জল ঢুকে গেলে পিস্টন জ্যাম হয়ে যায়। ইঞ্জিন সিজ হয়ে যাবে।
গাড়ি মাঝ রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাবে। আর স্টার্ট নেবে না। সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গেলে ইঞ্জিন খুলে ওভারহল করতে হবে। খরচ ৫০,০০০ টাকা থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইন্সুরেন্সও সবসময় কভার করে না।
*তাহলে জলজমা রাস্তায় কী করবেন? ৩টি গোল্ডেন রুল*
*এসি বন্ধ করুন, কাঁচ তুলুন*:
জল দেখলেই এসি, ব্লোয়ার সব বন্ধ করে দিন। গাড়ির সব কাঁচ তুলে দিন। এতে ইঞ্জিনের উপর লোড কমবে এবং জল টানার সম্ভাবনা কমবে।
*লো গিয়ারে, একটানা চালান*:
1st বা 2nd গিয়ারে রেখে ক্লাচ না চেপে একটানা ১০-১৫ kmph স্পিডে চালান। মাঝে ব্রেক বা অ্যাক্সিলেটর ছাড়বেন না। সামনে অন্য গাড়ির ঢেউ দেখে তবেই এগোন।
*জল থেকে বেরিয়েই হালকা ব্রেক চাপুন* :
জল পেরোনোর পর ৩-৪ বার হালকা করে ব্রেক চেপে ব্রেক প্যাডের জল শুকিয়ে নিন। নাহলে ব্রেক ফেল করতে পারে।
১. গাড়ি ৫ মিনিট স্টার্ট অবস্থায় রাখুন যাতে ইঞ্জিন গরম হয়ে জল শুকায়।
২. বাড়ি ফিরে মেকানিক দিয়ে এয়ার ফিল্টার চেক করান। ভিজে গেলে পাল্টে ফেলুন।
বর্ষায় ১০মিনিট গরম সহ্য করুন, কিন্তু লাখ টাকার ইঞ্জিন বাঁচান। জলজমা রাস্তায় এসি চালানো মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।