
Driving Tips: ড্যাশবোর্ডে হলুদ বাতি জ্বলে উঠেছে। তবুও ভাবছেন, "সামনের পাম্পে ভরে নেব"। শহর হোক বা হাইওয়ে, রিজার্ভ তেলে গাড়ি চালানোর অভ্যাস প্রায় সবারই আছে। কিন্তু অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসই আপনার গাড়ির সবচেয়ে বড় শত্রু। কয়েকশো টাকা বাঁচাতে গিয়ে আপনাকে গুনতে হতে পারে কয়েক হাজার টাকার বিল।
আধুনিক গাড়ির ফুয়েল পাম্প ফুয়েল ট্যাঙ্কের ভেতরেই ফিট করা থাকে। এই পাম্পকে ঠান্ডা রাখার কাজ করে ট্যাঙ্কের পেট্রোল বা ডিজেল। যখন ট্যাঙ্ক প্রায় খালি হয়ে যায়, তখন পাম্প বাতাস টানতে শুরু করে। ফলে অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। একবার-দুবার হলে কিছু না হলেও, বারবার এমন হলে পাম্পের কয়েল জ্বলে যায়। বদলাতে খরচ ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আমরা সবাই জানি ট্যাঙ্কের তলায় ধুলো, মরচে আর অন্যান্য ময়লা জমে। স্বাভাবিক অবস্থায় গাড়ি মাঝামাঝি থেকে তেল টানে। কিন্তু রিজার্ভে চললে গাড়ি একদম তলানি থেকে তেল টানে। সেই ময়লা সোজা চলে যায় ফুয়েল ফিল্টার আর ইনজেক্টরে। ধীরে ধীরে ফিল্টার জ্যাম হয়, মাইলেজ কমে এবং ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স খারাপ হয়।
রিজার্ভ লাইট জ্বলার পর কোম্পানি দাবি করে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার যাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে ট্রাফিক, এসি এবং রাস্তার অবস্থার উপর তা নির্ভর করে।পুজোর ভিড়, রাতের অন্ধকার বা ফাঁকা হাইওয়েতে যদি তেল শেষ হয়ে যায়, তাহলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, নিরাপত্তার ঝুঁকিও থাকে। ডিজেল গাড়ির ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। ট্যাঙ্ক খালি হলে "এয়ার লক" হয়ে গাড়ি আর স্টার্টই নেবে না।
গাড়ি ভালো রাখতে মেকানিকরা "ওয়ান ফোর্থ রুল" মানতে বলছেন। অর্থাৎ ট্যাঙ্কের কাঁটা যখন এক-চতুর্থাংশে নেমে আসবে, তখনই তেল ভরে নিতে হবে। রিজার্ভের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। লং ড্রাইভে বের হওয়ার আগে রুটে কোথায় পেট্রোল পাম্প আছে তা দেখে নিন। এবং কোম্পানির দেওয়া "রিজার্ভ মাইলেজ"-এর উপর পুরোপুরি ভরসা করবেন না। গাড়ি হল আমাদের নিত্যসঙ্গী। তাকে সময় মতো জ্বালানি না দিলে সেও একদিন মাঝপথে সঙ্গ ছাড়বে। তাই পরের বার রিজার্ভের লাইট জ্বললে আর রিস্ক নেবেন না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।