
অফিসে যাতায়াত হোক বা লং ট্রিপে বেরিয়ে পড়া, জীবনের প্রথম বাইক কেনার আনন্দটাই আলাদা। কিন্তু সঠিক মডেল বেছে নেওয়া বেশ কঠিন একটা কাজ। অনেকেই শুধু বাইকের ডিজাইন আর দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, আর তার পরেই শুরু হয় আফসোস। তাই বাইক কেনার আগে ইঞ্জিন, মাইলেজ, সেফটি ফিচার্স এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচের মতো কয়েকটি জরুরি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত।
বাইকটা কী কাজে ব্যবহার করবেন?
বাইক কেনার আগে নিজেকে প্রথম প্রশ্ন করুন, এটা আপনি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করবেন? যদি রোজ শহরের মধ্যে অল্প দূরত্বের জন্য বাইক লাগে, তাহলে কম সিসির ইঞ্জিন আর ভালো মাইলেজযুক্ত মডেল আপনার জন্য সেরা হবে। আর যদি আপনার লক্ষ্য হয় লং ডিসটেন্স ট্যুর বা অ্যাডভেঞ্চার রাইডিং, তাহলে ক্রুজার, স্পোর্টস বা অ্যাডভেঞ্চার বাইকের মতো শক্তিশালী মডেলগুলো দেখতে পারেন।
শুধু দাম নয়, মোট খরচ হিসেব করুন
বাইকের বাজেট ঠিক করার সময় শুধু এক্স-শোরুম দাম দেখলে হবে না। রেজিস্ট্রেশন, ইনস্যুরেন্স, রোড ট্যাক্স যোগ করে যেটা হয়, সেই অন-রোড দামটাই আসল। এর পাশাপাশি সার্ভিসিং, পেট্রোলের খরচ, পার্টসের দামের মতো দীর্ঘমেয়াদী খরচগুলোও হিসেবের মধ্যে রাখা ভালো। এতে বাইক কেনার পর হঠাৎ করে আর্থিক চাপে পড়তে হবে না।
ইঞ্জিন আর মাইলেজ সবচেয়ে জরুরি
বাইকের পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে ইঞ্জিনের ওপর। সাধারণত, শহরের রাস্তায় রোজকার যাতায়াতের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ সিসির বাইক যথেষ্ট। তবে হাইওয়েতে বেশি যাতায়াত করলে বা একটু বেশি পাওয়ার চাইলে ২০০ সিসি বা তার বেশি ইঞ্জিনের বাইক দেখতে পারেন। পেট্রোলের যা দাম, তাতে ভালো মাইলেজ দেয় এমন মডেল বেছে নেওয়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ।
আরাম ও সুরক্ষা সবার আগে
বাইক কেনার আগে সিটের উচ্চতা, হ্যান্ডেলবারের পজিশন এবং আপনার বসার ভঙ্গি ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা, তা দেখে নিন। সম্ভব হলে শোরুম থেকে ডেলিভারি নেওয়ার আগে একটা টেস্ট রাইড অবশ্যই করুন। সুরক্ষার জন্য ABS (অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম), ডিস্ক ব্রেক, ভালো মানের টায়ার এবং জোরালো হেডলাইট আছে কিনা, তা জেনে নিন। জরুরি পরিস্থিতিতে এই ফিচারগুলো জীবন বাঁচাতে পারে।
সার্ভিস সেন্টার ও রিসেল ভ্যালু দেখে নিন
এমন ব্র্যান্ডের বাইক কেনা উচিত, যার সার্ভিস সেন্টার আপনার বাড়ির কাছাকাছি রয়েছে। পার্টস সহজে পাওয়া যায় কিনা, সেটাও একটা বড় বিষয়। সাধারণত, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের জনপ্রিয় মডেলগুলোর রিসেল ভ্যালু বা পুরনো বাইকের দাম বেশ ভালো পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে বাইক বদলানোর সময় এটা আপনাকে আর্থিক সুবিধা দেবে।
লোন নিলে তুলনা করতে ভুলবেন না
যদি বাইক কেনার জন্য লোন নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে যে কোনো একটি ব্যাঙ্কের অফার দেখেই রাজি হয়ে যাবেন না। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও ফিনান্স কোম্পানির সুদের হার, প্রসেসিং ফি, মাসিক কিস্তি (EMI) এবং অন্যান্য শর্তগুলো ভালোভাবে তুলনা করুন। সঠিক লোন বেছে নিতে পারলে মোট খরচের ওপর বেশ কিছুটা টাকা বাঁচাতে পারবেন।
ওয়ারেন্টি আর ইনস্যুরেন্সও জরুরি
বাইক কেনার সময় কোম্পানি কোনো বিশেষ অফার দিচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর রাখুন। অনেক সময় উৎসবের মরসুমে ক্যাশ ডিসকাউন্ট, ফ্রি অ্যাকসেসরিজ বা অতিরিক্ত ওয়ারেন্টির মতো সুবিধা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি, একটি ভালো ইনস্যুরেন্স পলিসি থাকা খুব জরুরি। দুর্ঘটনা, চুরি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সমস্যায় পড়লে সঠিক ইনস্যুরেন্স আপনার আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তাই শুধু দাম না দেখে, ব্যবহার, খরচ, সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো সব দিক খতিয়ে দেখেই আপনার প্রথম বাইকটি বেছে নিন।