
তিনি কোনো পারিবারিক ব্যবসা উত্তরাধিকার সূত্রে পাননি। শুরুতেই পাননি বিশেষ সুবিধা বা প্রভাবশালী যোগাযোগ। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া কলকাতার ছেলে অর্ঘ্য সরকার তাঁর জীবনযাত্রা শুরু করেছিলেন সংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে।
১৯৮৮ সালের ৬ জুলাই জন্ম নেওয়া অর্ঘ্য ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন কীভাবে বেকারত্ব নিঃশব্দে মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান ক্ষয় করে। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর চিন্তাধারার ভিত গড়ে দেয়। “যখন কেউ চাকরি খুঁজছেন, তখন তিনি আগেই মানসিকভাবে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকেন। সেই সময় আশার বিনিময়ে টাকা নেওয়া অনৈতিক,” বলেন Arghya Sarkar। “প্রথম দিন থেকেই আমি ঠিক করেছিলাম—চাকরি খোঁজার সঙ্গে কোনো মূল্য ট্যাগ থাকবে না।” ২০২১ সালে মাত্র
১৫,০০০ টাকা সঞ্চয় নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Recruitment Mantra— একটি সাধারণ কনসালটেন্সি হিসেবে নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক মিশন হিসেবে। ছোট পরিসরে শুরু হলেও আজ Recruitment Mantra কলকাতার অন্যতম বিশ্বস্ত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত Recruitment Process Outsourcing (RPO) সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবুও, প্রার্থীদের জন্য এটি আজও একটি free job placement consultancy। ভারতের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র যখন automation ও digitalisation-এর মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন Recruitment
Mantra গ্রহণ করেছে AI প্রযুক্তি—কিন্তু মানবিকতা বিসর্জন না দিয়ে। “AI গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু মানবিক বিচারবোধের বিকল্প হতে পারে না। একটি résumé হলো data, কিন্তু একজন candidate একটি গল্প,” বলেন Arghya Sarkar। Recruitment Mantra-তে AI ব্যবহার করা হয় résumé screening, data-driven shortlisting এবং process optimisation-
এর জন্য। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সহানুভূতি, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে। এই hybrid model স্টার্টআপ ও ছোট মাঝারি সংস্থাগুলিকে সঠিক প্রতিভা খুঁজে পেতে সহায়তা করছে—যা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
“Startups শুধু talent চায় না, তারা right talent চায়। আমাদের কাজ হলো business pain এবং human aspiration—দুটোই বোঝা,” তিনি বলেন। ব্যবসার বাইরেও Recruitment Mantra-এর free placement initiative সামাজিক সমতার প্রতি অর্ঘ্যের অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে। ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থ -সামাজিক প্রেক্ষাপট—কোনো কিছুর ভিত্তিতেই সুযোগ সীমাবদ্ধ নয়। “Employment শুধু income নয়, এটি dignity, confidence ও stability। যদি আমরা কাউকে বিনামূল্যে সেই সুযোগ দিতে পারি, সেটাই আমাদের দায়িত্ব ,” বলেন Arghya Sarkar।
স্কিল-ফার্স্ট ও inclusive hiring- এর প্রবল সমর্থক হিসেবে তিনি তাঁর ভাবনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁর বই Recruitopia, TEDx বক্তৃতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। আজ ‘Viksit Bharat 2047’-এর স্বপ্নপূরণের পথে যখন দেশ এগিয়ে চলেছে, তখন Recruitment Mantra প্রমাণ করছে—nation- building শুধু প্রযুক্তি বা innovation নয়, বরং intention ও empathy-এর সমন্বয়। ১৫,০০০ টাকার সূচনা থেকে ethical, AI-enabled recruitment- এর এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে তোলার এই যাত্রা দেখিয়ে দেয়—ভবিষ্যৎ তাঁদেরই, যারা algorithm- এর আগে মানুষকে প্রাধান্য দেন।