
Adani Airports: ইন্ডিগো (IndiGo) এয়ারলাইন্স এবং আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড (AAHL) যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (NMIA) থেকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনাটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই প্রোজেক্টকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে, যা তাদের পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং মুম্বাই মেট্রোপলিটন অঞ্চলের (MMR) দ্বৈত-বিমানবন্দর ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
NMIA-তে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (CSMIA) থেকে প্রতিদিনের ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যায়ক্রমে NMIA-তে স্থানান্তর করবে ইন্ডিগো। তার মধ্যে রয়েছে বর্তমানে CSMIA থেকে বাহরিন, রিয়াধ, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, কুয়েত, রাস আল খাইমাহ, ফুজাইরাহ, মাস্কাট, ঢাকা এবং জাকার্তাগামী সমস্ত ফ্লাইট। এছাড়া কাঠমান্ডুগামী আরও একটি দৈনিক ফ্লাইট যুক্ত করা হবে। যার ফলে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জুলাই মাসের মধ্যে NMIA-তে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ১২টি গন্তব্যে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলি পরিচালনার সুবিধার্থে ইন্ডিগো প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সংযোগ ব্যবস্থাও CSMIA থেকে NMIA-তে স্থানান্তর করবে। যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে তাদের পরবর্তী গন্তব্যের সংযোগটি পেতে পারেন।
ইন্ডিগোর সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতায়, AAHL এমন পরিকাঠামো তৈরির কাজ করছে, যা NMIA-তে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিষেবার মধ্যে যাত্রীদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলবে। এটি NMIA-কে দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্ডিগোর সম্প্রসারণ কৌশলের পরবর্তী ধাপ। CSMIA-তে এই সক্ষমতা স্থানান্তর (capacity transition) আরও দুটি যৌথ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। প্রথমত, এটি ২০২৭ সালে ইন্ডিগোর (IndiGo) আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। যার ফলে, ইন্ডিগো তাদের ক্রমবর্ধমান A320/321 এবং A321XLR উড়োজাহাজের বহর ব্যবহার করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে নতুন পরিষেবা চালু করতে পারবে—এবং তা করতে গিয়ে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতায় থাকা এই বিমানবন্দরে বাড়তি কোনো চাপের সৃষ্টি হবে না।
দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের এই স্থানান্তর ২০৩০ সালের মধ্যে CSMIA-এর টার্মিনাল ১ (T1) পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে। CSMIA T1-এর পুনর্নির্মাণের সুবিধার্থে ইন্ডিগোর পরিষেবাগুলিতে যদি আরও কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তবে তা CSMIA টার্মিনাল ২ (T2)-এ স্থানান্তর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইন্ডিগো এবং AAHL (Adani Airport Holdings Limited) যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। এই পর্যায়ক্রমিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো মুম্বইয়ের দুটি বিমানবন্দরের সমন্বিত ব্যবস্থায় সক্ষমতার একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং আনুপাতিক পুনর্ভারসাম্য বজায় রাখা। যেখানে CSMIA-তে প্রতিটি এয়ারলাইন্সের বর্তমান উপস্থিতিকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এই সুষম দৃষ্টিভঙ্গি সব এয়ারলাইন্সের জন্য একটি সুশৃঙ্খল স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে, কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন কমাতে এবং এয়ারলাইন ও যাত্রী—উভয়ের জন্যই পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে, যখন NMIA (Navi Mumbai International Airport)-এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে এবং CSMIA-তে পুনর্নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলবে, তখন এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।
প্রকল্পের চূড়ান্ত সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় পরিচালনগত অনুমোদন পাওয়ার সাপেক্ষে, ইন্ডিগো (IndiGo) এনএমআইএ (NMIA)-তে পরিষেবা স্থানান্তরের চূড়ান্ত তারিখ এবং সিএসএমআইএ (CSMIA)-তে নতুন পরিষেবা চালুর ঘোষণা করা হবে। এই পর্যায়ক্রমিক স্থানান্তর এনএমআইএ থেকে সংযোগ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করবে এবং সিএসএমআইএ থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ আরও বাড়াবে। এর ফলে, মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলের যাত্রীরা দুটি বিমানবন্দরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আরও বিস্তৃত সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (CSMIA) টার্মিনাল ১-এর পুনর্নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য গৃহীত সামগ্রিক স্থানান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ তাদের পশ্চিম এশিয়াগামী কিছু পরিষেবাকে ধাপে ধাপে নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (NMIA) স্থানান্তর করবে। এর আওতায়, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে প্রতিদিন চারটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কুয়েতগামী নতুন পরিষেবা ও ওমানগামী বিদ্যমান পরিষেবাগুলো নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হবে।
এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ পর্যায়ক্রমে জেদ্দা, রিয়াধ, দাম্মাম, দোহা, মাস্কাট এবং শারজাহগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পরিষেবাগুলোকে নভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (NMIA) স্থানান্তর করবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের আইএটিএ (IATA) নর্দার্ন সামার মৌসুমের মধ্যেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। এই স্থানান্তরটি বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থার সাথে ধারাবাহিক সহযোগিতামূলক আলোচনার ফল। এটি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় এয়ারলাইন্সের জন্য গৃহীত বৃহত্তর বিমানবন্দর স্থানান্তর কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সিএসএমআইএ (CSMIA)-এর টার্মিনাল ১-এর বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্মাণ কাজে সহায়তা করবে। পর্যায়ক্রমিক এই স্থানান্তর মুম্বাইয়ের দ্বৈত-বিমানবন্দর ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে; একইসঙ্গে এটি এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপকে বাজারে দক্ষতার সঙ্গে পরিষেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে এবং সিএসএমআইএ-তে তাদের বিদ্যমান স্লটগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সিএসএমআইএ (CSMIA) এবং এনএমআইএ (NMIA)—উভয় বিমানবন্দর থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, যাত্রীদের জন্য অধিকতর পছন্দ ও সুবিধার সুযোগ তৈরি করবে এবং এই অঞ্চলে বিমান চলাচল অবকাঠামোর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড, এনএমআইএ (NMIA) থেকে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিকে উন্নত প্রযুক্তি, মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি এবং সম্প্রসারণযোগ্য অবকাঠামোর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করা যায় এবং যাত্রীদের একটি নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করা সম্ভব হয়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।