Budget 2026 Textile: বস্ত্রশিল্পে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, নির্মলার ঘোষণায় বাংলাদেশের মাজা ভেঙে যাবে

Published : Feb 01, 2026, 03:09 PM IST
BUDGET 2026 TEXTILE SECTOR

সংক্ষিপ্ত

 বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার রেশম উৎপাদন, যন্ত্রপাতির সহায়তা, হস্তচালিত তাঁত ও হস্তশিল্প কর্মসূচি এবং বস্ত্র খাতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

২০২৬-২৭ সালের বাজেটে বস্ত্রশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার রেশম উৎপাদন, যন্ত্রপাতির সহায়তা, হস্তচালিত তাঁত ও হস্তশিল্প কর্মসূচি এবং বস্ত্র খাতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ ঘোষণা করে ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প সেক্টরের উপর বিশেষ আলোকপাত করেছেন। এটি খাদি, তাঁত এবং হস্তশিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি বড় প্রচেষ্টা। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় মন্ত্রী বলেন, সরকার বস্ত্রশিল্পের ইকোসিস্টেমে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চায়। তিনি বলেন, 'দ্রুততার সঙ্গে মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব করছি। আমি খাদি এবং তাঁতকে শক্তিশালী করার জন্য মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ চালু করার প্রস্তাব করছি।'

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের অবস্থান

ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ধারাবাহিকভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বস্ত্রশিল্পের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে আসছে। যতদিন বাংলাদেশে ভারত-সমর্থিত সরকার ছিল, ভারত প্রতিবেশীসুলভ কর্তব্য হিসেবে এই ক্ষতি সহ্য করে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গণতান্ত্রিক সরকারের বিদায়ের পর সেখানকার ইউনূস সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে তলানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে শুরু করেছে। ভারত সরকারের ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের বস্ত্রবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার কৌশল ঘোষণা করা হয়েছে।

বাজেটে বড় ঘোষণা

অর্থমন্ত্রী ভারতের শ্রম-নিবিড় বস্ত্রশিল্প খাতকে সহায়তা করার জন্য একটি কর্মসূচির কথাও বলেন। এই কর্মসূচিতে পাঁচটি মূল অংশ রয়েছে, যার প্রতিটির লক্ষ্য উৎপাদন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা উন্নত করা। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম, টেক্সটাইল এক্সপ্যানশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট স্কিম, ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফট প্রোগ্রাম, টেক্স-ইকন উদ্যোগ এবং সমর্থ ২.০।

কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'রেশম, পশম এবং পাটের মতো প্রাকৃতিক তন্তু, মানবসৃষ্ট তন্তু এবং নতুন যুগের তন্তুর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম। দুই, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ পরীক্ষা ও শংসাপত্র কেন্দ্রের জন্য মূলধনী সহায়তা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ক্লাস্টারগুলিকে আধুনিকীকরণের জন্য টেক্সটাইল এক্সপ্যানশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট স্কিম। তিন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলিকে একীভূত ও শক্তিশালী করতে এবং তাঁতি ও কারিগরদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফট প্রোগ্রাম। চার, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই বস্ত্র ও পোশাককে উৎসাহিত করার জন্য টেক্স-ইকন উদ্যোগ। এছাড়াও, শিল্প এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বস্ত্রশিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধির ইকোসিস্টেমকে আধুনিকীকরণ ও উন্নত করার জন্য সমর্থ ২.০। এছাড়াও, আমি চ্যালেঞ্জ মোডে মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপনের প্রস্তাব করছি। এগুলি টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে মূল্য সংযোজনের উপরও মনোযোগ দিতে পারে। আমি তাঁত এবং হস্তশিল্পকে শক্তিশালী করার জন্য মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ চালু করার প্রস্তাব করছি। এটি বিশ্বব্যাপী বাজার সংযোগ এবং ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা করবে। এটি উৎপাদনে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গুণমান প্রক্রিয়াকে সুবিন্যস্ত ও সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপগুলি আমাদের তাঁতি, কুটির শিল্প, এক জেলা, এক পণ্য (ODOP) উদ্যোগ এবং আমাদের গ্রামীণ যুবকদের উপকৃত করবে।'

২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা

ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তার পোশাক খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর জন্য ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলো দখল করা এবং বিদ্যমান প্রতিযোগীদের চ্যালেঞ্জ করা প্রয়োজন। ভারতের এই ঘোষণাগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশের বস্ত্র খাত সঙ্কটে রয়েছে। ভারতীয় সস্তা, শুল্কমুক্ত সুতার আমদানির কারণে স্থানীয় উৎপাদন চাপের মুখে পড়ায় বাংলাদেশের স্পিনিং মিল মালিকরা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভারতের বাজেট ঘোষণায় ফাইবার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিশ্ব বাজারে ভারতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬: ১ এপ্রিল চালু হচ্ছে নতুন আয়কর আইন, ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
Union Budget 2026: অ্যালকোহল ও তামাকজাত পন্যের কর ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে?