
২০২৬-এর বাজেট: সাধারণ মানুষ কী চাইছে সরকারের কাছে বছরের শুরু মানেই সাধারণ মানুষের চোখ থাকে কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে। কারণ এই একটি ঘোষণাই ঠিক করে দেয় আগামী দিনে সংসার চালানো কতটা সহজ হবে। মূল্যবৃদ্ধির চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা, করের বোঝা—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বাজেট নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এবার বেশ বাস্তবমুখী।
সবচেয়ে আগে আসে মধ্যবিত্তের কথা। বেতনভোগীরা চান আয়করে কিছুটা স্বস্তি। অনেকেরই মাসের শেষে হাতে তেমন টাকা থাকে না। তাই করের স্ল্যাব বদল, স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়ানো কিংবা সহজ রিটার্ন ব্যবস্থার মতো সিদ্ধান্ত হলে সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। এর পরেই রয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেল, ওষুধ, রান্নার গ্যাস—প্রতিদিনের জীবনে যেগুলো ছাড়া চলে না, সেগুলোর দাম যেন আর না বাড়ে, সেটাই মানুষের বড় চাওয়া।
অনেকেই আশা করছেন, জিএসটি কাঠামো কিছুটা বদলে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর পথ খুঁজবে সরকার। চাকরি ও কাজের সুযোগ নিয়েও মানুষের দুশ্চিন্তা কম নয়। পড়াশোনা শেষ করেও বহু তরুণ স্থায়ী কাজ পাচ্ছেন না। তাই বাজেটে এমন পরিকল্পনা দরকার, যেখানে নতুন শিল্প, ছোট ব্যবসা, স্টার্টআপ ও এমএসএমই সংস্থাগুলোকে সাহায্য করা হবে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসা বাড়বে, তেমনই কাজের সুযোগও তৈরি হবে। গ্রামবাংলার মানুষও বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকেন। চাষিদের খরচ বেড়েছে, কিন্তু ফসলের দাম সবসময় সেই অনুযায়ী বাড়ে না। তাই সেচ, ফসল বিমা, কৃষিঋণ ও গ্রামীণ প্রকল্পে আরও জোর দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এতে চাষিদের আয় কিছুটা হলেও স্থির থাকবে। শহরের মানুষের কাছে আবার বড় বিষয় পরিবহণ ও পরিকাঠামো। ট্রেন, বাস, রাস্তা, আবাসন—সবকিছু উন্নত হলে দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়। তাই বাজেটে রেল, সড়ক ও শহর উন্নয়নে বেশি টাকা বরাদ্দের আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাও মানুষের তালিকায় উপরের দিকেই থাকে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ভালো হলে চিকিৎসার খরচ কমে। একইভাবে স্কুল-কলেজে আধুনিক সুযোগ বাড়লে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হয়। তাই এই দুই ক্ষেত্রেও বাজেটে বাড়তি গুরুত্ব চাইছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বাজেট থেকে মানুষের চাওয়া খুব জটিল কিছু নয়। মানুষ চায় এমন সিদ্ধান্ত, যাতে মাসের শেষে একটু নিশ্চিন্ত থাকা যায়। করের চাপ কমুক, কাজের সুযোগ বাড়ুক, বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকুক এবং জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে হলেও সহজ হোক।