
Cheap Crude Oil: মার্কিন আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার পর, ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। ইরান এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তার অপরিশোধিত তেল বিক্রি বাড়াতে চায়। এখন, মধ্যস্থতাকারী ও ব্যবসায়ীরা ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলোকে ব্যাপক ছাড়ে ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন শান্তি চুক্তির অধীনে প্রাথমিক আলোচনার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ৬০ দিনের জন্য আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান ভারতীয় শোধনাগারগুলোতে তেল বিক্রি করতে পারছিল না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সিদ্ধান্তটি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলে দিয়েছে। রয়টার্সের মতে, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এবার তেল বিক্রির জন্য সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) এবং দালালদের মাধ্যমে, যারা দাবি করছে যে ইরানের রাষ্ট্রীয় উৎপাদক সংস্থাটি তাদের তেল বরাদ্দ দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি শোধনাগারের সূত্র জানিয়েছে যে, এনআইওসি ছাড়াও বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রি করার জন্য তাদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ করছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ ইরান হাতছাড়া করতে নারাজ। ভারতীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এনআইওসি (NIOC) বড় ধরনের ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সূত্রমতে, সংস্থাটি ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে প্রস্তাব দিয়েছে যে, একই গ্রেডের অন্যান্য তেলের তুলনায় ইরানের অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার সস্তা হবে। তবে, ইরানে সরকারি ছুটির কারণে এনআইওসি-র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্রমতে, যে ব্যবসায়ীরা ভারতীয় শোধনাগারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তারা সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের ছোট ও মাঝারি আকারের ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। গত সপ্তাহে ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ নয়াদিল্লি সফর করেন, যেখানে ভারতে অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে, ভারতীয় শোধনাগারগুলোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমাণে ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনার সুযোগ সীমিত, কারণ বেশিরভাগ কোম্পানিই ইতোমধ্যে আগস্ট পর্যন্ত তাদের সরবরাহ নিশ্চিত করে ফেলেছে। উপরন্তু, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সরবরাহকারীরাও বার্ষিক চুক্তি পূরণের জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে।
ভারত পূর্বে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ইরান থেকে এলপিজি আমদানি করত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর এই আমদানি আরও বাড়তে পারে। তবে, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং ব্যাংকিং চ্যানেল সংক্রান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে অস্পষ্ট, তাই বাণিজ্যিক আলোচনায় সময় লাগতে পারে। এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের ছাড়ের সময় ভারত এপ্রিল মাসে ইরান থেকে তেলের দুটি চালান পেয়েছিল। অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল চীনা ইউয়ানে। ২০১০/১১ অর্থবর্ষে ইরান ছিল ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী। তবে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ধীরে ধীরে তেল ক্রয় কমিয়ে দেয়।