Cooking Oil Economy Connection: ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের কারণে ভারতের অর্থনীতি চাপের মুখে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে রান্নার তেল মতো পণ্যের ব্যবহার কমানোর আবেদন করছেন। এই সাশ্রয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
Cooking Oil Economy Connection: মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন ভারতে ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং জনগণকে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করছেন। পেট্রোল ও ডিজেল থেকে শুরু করে অপরিশোধিত তেল পর্যন্ত সবকিছুর ওপর সাশ্রয়ের আবেদন করা হচ্ছে।
211
রান্নার তেলের ব্যবহার কমানোরও পরামর্শ
জনগণকে এক বছরের জন্য সোনা না কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী জনগণকে তেলের ব্যবহার কমাতে এবং সোনা কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে, জনগণকে রান্নার তেলের ব্যবহার কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
311
দেশের অর্থনীতিকেও উন্নত করতে পারেন
এর অর্থ হলো, পাকোড়া, সামোসা এবং জিলাপির মতো ভাজা খাবার দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হানছে। আপনার খাবারে তেলের ব্যবহার কমিয়ে আপনি কেবল আপনার স্বাস্থ্যই নয়, দেশের অর্থনীতিকেও উন্নত করতে পারেন।
আপনার রান্নাঘরে ব্যবহৃত রান্নার তেলের ৬০% অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়। এই আমদানির বিল বিশাল, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ সালে, ভারত ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রান্নার তেল আমদানি করেছিল।
511
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ বাড়িয়েছে
এর মানে হলো, আপনার পাকোড়া ও সামোসা কেনার কারণে দেশ থেকে প্রচুর টাকা বেরিয়ে গেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ বাড়িয়েছে। দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রা, রুপি, মারাত্মক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।
611
রান্নার তেল কেনা কমালে অর্থনীতির কী লাভ হবে?
সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (SEA)-এর মতে, ভারত ২০২৪-২৫ সালে ১৯.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্রায় ১৬ মিলিয়ন টন রান্নার তেল আমদানি করেছে। এর মানে হলো, এই টাকা ভারতীয় কোষাগার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বোঝা বাড়াচ্ছে। যুদ্ধের কারণে আমাদের দামী অপরিশোধিত তেল কিনতে হচ্ছে, যা ক্রমাগত ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে।
711
ভারত কী পরিমাণ রান্নার তেল আমদানি করে?
১. ভারত ২০২৪-২৫ সালে ১৬ মিলিয়ন টন ভোজ্য তেল আমদানি করেছে।
২. পাম তেল: ৮-৮.৫ মিলিয়ন টন
৩. সয়াবিন তেল: ৫-৫.৫ মিলিয়ন টন
৪. সূর্যমুখী তেল: ২.৮-৩ মিলিয়ন টন
৫. আমদানিকারক দেশসমূহ: ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ইউক্রেন
811
ভারত সোনা, তেল, সার এবং ভোজ্য তেলের জন্য কত খরচ করে?
প্রধানমন্ত্রী মোদী অপরিশোধিত তেল, সোনা, সার এবং ভোজ্য তেল—এই চারটি পণ্যের ব্যবহার কমানোর জন্য আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত এই চারটি পণ্য আমদানির জন্য ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এই চারটি পণ্য দেশের মোট আমদানির ৩১.১ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে...
১. অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ২৪০.৭ বিলিয়ন ডলার
২. সোনা আমদানিতে ৭২ বিলিয়ন ডলার
৩. ভোজ্য তেল আমদানিতে ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার
৪. সার আমদানিতে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার।
911
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথা শুনলে ভারত কতটা সাশ্রয় করবে?
স্পষ্টতই, এই সংকটকালে মানুষ যদি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে চলে এবং এই চারটি পণ্য বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ব্যয় হ্রাস পাবে। ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ কমবে। এই সংকটের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
1011
আমদানি করা পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে চায় ভারত
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতের অসুবিধা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের যে বাস্কেটটি ব্যারেল প্রতি ৭০.৯৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, মে মাসে ভারতের জন্য তার দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৫.৪ ডলার। ইরানের কারণে ভারত হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে চায়।
1111
ভারতের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কত?
বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আমদানি কমিয়ে অর্থনীতিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। ১ মে, ২০২৬-এ শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে ৬৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি নাগাদ এই রিজার্ভ ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছিল। ভারতের স্বর্ণের রিজার্ভের পরিমাণ ৮৮০ টন।
Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.