Iran Math: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকি দেওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ একটি 'গাণিতিক' ফর্মুলা দিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই অবরোধ হলে তেলের দাম এতটাই বাড়বে যে মানুষ বড় সমস্যায় পড়বে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকিকে একেবারে গণিতের ফর্মুলা দিয়ে বিঁধলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ। সোমবার তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা যদি সত্যিই এই পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

ইরানের অঙ্ক

গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মানুষ খুব শীঘ্রই এখনকার তেলের দামের জন্য আফসোস করবে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি একটি পোস্টে লেখেন, "এখনকার তেলের দামটা উপভোগ করুন। তথাকথিত 'অবরোধ' শুরু হলে, খুব তাড়াতাড়ি আপনারা ৪-৫ ডলার দামের জন্যেও আফসোস করবেন। এখানে BSOH-এর অর্থ 'ব্লকেড অফ দ্য স্ট্রেট অফ হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালীর অবরোধ। এই ফর্মুলার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, অবরোধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেলের দামের ওপর তার প্রভাবও তত বাড়বে।

Scroll to load tweet…

মার্কিন তৎপরতা হরমুজ অবরোধে

ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানের সমস্ত বন্দর অবরোধ করা শুরু করবে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সারা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই সরবরাহ হয়।

মার্কিন সেনাকে কটাক্ষ ইরানের

এদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যেই সিয়েরা লিওনে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস একটি মজার মন্তব্য করেছে। এক্স-এ একটি পোস্টে তারা লেখে, "আপনারা জানেন তো যে শুধু এক্স-এ পোস্ট করে অবরোধ করা যায় না? এর জন্য আপনাদের জাহাজগুলোকে আরও কাছে আনতে হবে!"

Scroll to load tweet…

চিনা সওয়াল

এর আগে সোমবার চিন হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচলের পক্ষে সওয়াল করে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সোমবার বলেন, "হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত স্বার্থের জন্য জরুরি।" এই খবরটি সিনহুয়া প্রকাশ করেছে।

চিন যদি ইরানকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে, তবে শুল্ক বসানোর যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গুও বলেন, শুল্ক যুদ্ধে কারও জয় হয় না।

গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি বলেন, "চিনের অবস্থান খুব স্পষ্ট: শুল্ক যুদ্ধে কেউ জেতে না।"

এই হুমকি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মে মাসের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের বেজিং যাওয়ার কথা। প্রথমে এই সফর এপ্রিলের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই তা পিছিয়ে দেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন যে "ইরান যুদ্ধ তদারকি করার জন্য" তাঁর ওয়াশিংটনে থাকা প্রয়োজন।

এর আগে ৮ এপ্রিল, চিনা সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তাদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং জানান, বেইজিং এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।