
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবার চূড়ান্ত হওয়ার পথে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন করতে আর মাত্র কয়েকটি বিষয়ের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। শীঘ্রই এই বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা হতে পারে বলেও আশাবাদী তিনি। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর রুবিও জানান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই দেশ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আর অল্প কয়েকটি বিষয়ের নিষ্পত্তি করা বাকি। দ্রুত সেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই চুক্তিটি ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তিগুলোর চেয়ে ভিন্ন ধরনের হবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। আমরাও একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমরা খুব কাছাকাছি পর্যায়ে আছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি আমাদের করা আগের চুক্তিগুলোর চেয়ে অনেকটাই আলাদা হবে।” তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। উল্লেখ্য, বাণিজ্য শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে চুক্তির অগ্রগতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আমেরিকা চাইছে, ভারত যেন জ্বালানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করে এবং মার্কিন জ্বালানি ও প্রযুক্তি কেনার পরিমাণ বাড়ায়। রুবিওর ভারত সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার পরিদর্শন। সেখানে জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর শর্তাবলি এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আপাতত দুই দেশই দ্রুত আলোচনা শেষ করে চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।