
Enforcement Directorate Action: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সম্প্রতি তাদের পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী (এফইও) তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নীরব মোদী এবং বিজয় মাল্য সহ ২১ জনের নাম রয়েছে। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ইডি তাদের পলাতক ঘোষণা করেছে। এছাড়াও, সংস্থাটি এই অভিযুক্তদের ২,১৭৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন (এফইওএ)-এর অধীনে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জনকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের প্রায় ২,১৭৮.৩৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, এই ২১ জনের মধ্যে ৯ জনকে শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ সালেই পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত দুই অর্থবছর, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬-এ পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইনের (FEOA) অধীনে ইডি-র কাজ বেশ কার্যকর হয়েছে। এই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পলাতক ঘোষিত অভিযুক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, যারা বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে ইডি-র অঙ্গীকার এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের এই প্রতিবেদন অনুসারে, গত সাত বছরে সংস্থাটি ২১ জনকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও বিজয় মাল্য, যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক অস্ত্র পরামর্শক সঞ্জয় ভান্ডারি এবং হাজরা ইকবাল মেমন (দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী ইকবাল মির্চির স্ত্রী)। তবে, প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি, ইসলাম ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক এবং মহাদেব অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত সৌরভ চন্দ্রকর ও রবি উপ্পালকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করার মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একজন পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী (FEO) হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি মূল্যের জালিয়াতির জন্য ভারতীয় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং যিনি শাস্তি এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ও ভারতে ফিরতে অস্বীকার করেন।