Published : Jul 03, 2026, 12:01 PM ISTUpdated : Jul 03, 2026, 12:33 PM IST
EPFO Rules: সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-র অধীনে কিছু নতুন নিয়ম আনা হয়েছে, যা ২৯ জুন, ২০২৬ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। তার ফলে, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF গ্রাহকদের জন্য কী কী পরিবর্তন এসেছে, চলুন একবার দেখে নেওয়া যাক।
নতুন নিয়মানুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়া আরও সহজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সেইজন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রয়েছে। গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে মোট জমা টাকার (Eligible Member Balance) অন্তত ২৫% টাকা রাখতেই হবে। বাকি ৭৫% টাকা নির্দিষ্ট কারণে তোলা যাবে। যেমন আপনার অ্যাকাউন্টে যদি ১ লক্ষ টাকা থাকে, তাহলে ২৫,০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে রেখে বাকি ৭৫,০০০ টাকা তুলতে পারবেন। এই নিয়ম কর্মচারী এবং সংস্থা, উভয়ের অবদানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
25
টাকা তোলার কারণ এবং যোগ্যতা
চিকিৎসার জন্যঃ ১২ মাস সাবস্ক্রিপশনের পরে, জরুরি চিকিৎসার জন্য যোগ্য টাকার ১০০% পর্যন্ত তোলা যাবে। পড়াশোনার খরচঃ ১২ মাস পর, সন্তানের পড়াশোনার জন্য ১০০% পর্যন্ত টাকা তোলা যাবে (চাকরির মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বার)।
বিয়ের জন্যঃ ১২ মাস পরে, বিয়ের খরচের জন্য ১০০% পর্যন্ত টাকা তোলা যাবে (চাকরির মেয়াদে সর্বোচ্চ ৫ বার)। বাড়ি তৈরি বা কেনাঃ ১২ মাস পর, নতুন বাড়ি বা জমি কেনা এবং লোন শোধ করার জন্য পুরো যোগ্য টাকাই তোলা যাবে।
চাকরি চলে গেলেঃ ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই চাকরি ছাড়লে, নির্দিষ্ট শর্তে এক অর্থবর্ষে সর্বোচ্চ ২ বার ১০০% পর্যন্ত টাকা তোলার সুযোগ থাকছে।
35
পিএফ কন্ট্রিবিউশন (EPF Contributions)
অবদানের হারঃ কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা, উভয়কেই বেতনের ১২ শতাংশ করে পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। এতে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
বেতনের ঊর্ধ্বসীমাঃ যাদের বেতন নির্দিষ্ট আইনি সীমার (Wage Ceiling) বেশি, তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওই সীমা পর্যন্ত টাকার উপরেই বাধ্যতামূলক অবদান গণনা করা হবে।
ভলান্টারি পিএফ বা VPF: কর্মীরা চাইলে VPF-এর মাধ্যমে ১২ শতাংশের বেশি টাকাও জমাতে পারেন। নতুন নিয়মানুযায়ী, এই অতিরিক্ত টাকা জমানো কমানো বা বন্ধ করার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থাঃ দুর্যোগ বা মহামারির মতো পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার পিএফ-এর অবদান সাময়িকভাবে কমাতে বা স্থগিত রাখতে পারে (সর্বোচ্চ ৩ মাস)।
আগের EPS-95 এবং ১৯৭১ সালের ফ্যামিলি পেনশন স্কিমের পরিবর্তে এই নতুন 'EPS 2026' আনা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই পেনশন পাচ্ছেন, তাদের মাসিক পেনশনের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়বে না। পেনশন হিসেব করার ফর্মুলাতেও কোনও বদল হয়নি। পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে অবসর নেওয়ার আগের ৬০ মাসের গড় বেতনের ভিত্তিতেই পেনশন হিসেব করা হবে। ন্যূনতম মাসিক পেনশন ১,০০০ টাকাই থাকছে। নতুন নিয়মানুযায়ী, EPFO-কে ২০ দিনের মধ্যে পেনশনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। দেরিতে পেনশন দিলে EPFO-কে ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদসহ টাকা দিতে হবে। এই সুদের টাকা দায়ী ইপিএফ কমিশনারের বেতন থেকে কাটা হবে।
55
ডিজিটাল পরিষেবা এবং সংস্থাগুলির জন্য নিয়ম
নতুন স্কিমটি EPFO-র অনলাইন পরিষেবা, যেমন অনলাইন রিটার্ন ফাইলিং, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পাসবুক এবং অনলাইন ক্লেমকে পুরোপুরি আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে। সংস্থাগুলিকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে 'ফর্ম V' জমা দিতে হবে। এতে কর্মীদের UAN, PAN এবং আধার নম্বর লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, যে সব সংস্থা নিজস্ব পিএফ ট্রাস্ট (Exempted EPF Trusts) চালায়, তাদের জন্য অডিট এবং বিনিয়োগের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। সংক্ষেপে, নতুন EPF এবং EPS 2026 স্কিম গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে টাকার জোগান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে।
Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.