
নিজের প্রিয় বাইক কেনা প্রতিটি মধ্যবিত্ত মানুষের স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই আসে বিপত্তি! বেশিরভাগ মানুষই সামর্থের বাইরে গিয়ে লোন নিয়ে বাইক কেনেন। যা মেটাতে কালঘাম ছুটে যায়।
প্রতি মাসে তার ভারী ইএমআই (EMI) শোধ করা অসুবিধা হয়ে দাঁড়ায়। এই অসুবিধা দূর করার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপার্টরা পার্সোনাল ফাইন্যান্সের একটি খুবই সহজ এবং জাদুকরী ফর্মুলা শেয়ার করেছেন।
তাঁরা এমন এনিয়ম বুঝিয়েছেন, যার সাহায্যে আপনি আপনার মাসিক বেতনের হিসাব অনুযায়ী ঠিক এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি বাইক বেছে নিতে পারেন।
যদি লোনে বাইক নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপার্ট অঙ্কুর ওয়ারিকু সবসময় একটি বিশেষ রুল ১০-৩-১৫ অনুসরণের পরামর্শ দেন।
আসুন এটিকে বিস্তারিতভাবে জানি:
১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট: বাইকের মোট অন-রোড মূল্যের কমপক্ষে শতাংশ টাকা আপনাকে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে নগদ দিতে হবে।
৩ বছরের লোন: আপনার ভেহিকেলের লোনের সময়সীমা সর্বাধিক ৩ বছরের বেশি নেওয়া যাবে না।
১৫ শতাংশ বেতন নিয়ম: আপনার প্রতি মাসে দেওয়ার ইএমআই আপনার মোট ইন-হ্যান্ড বেতনের ১৫ শতাংশের বেশি কখনোই হওয়া উচিত নয়।
১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন: এই বেতন ব্র্যাকেটে থাকা মানুষদের উচিত তাদের বাড়ির খরচ মাথায় রেখে কম বাজেটের মাইলেজ বাইক বেছে নেওয়া।
এক্সপার্টদের মতে, বাজাজ প্লাটিনা মতো টেকসই বাইক সেরা হবে, যার মাসিক EMI প্রায় ১৮০০ টাকা হবে।
২৫ হাজার মাসিক বেতন: ২৫ হাজার প্রতিমাস আয় করা যুবকদের জন্য একটি স্পোর্টি এবং স্টাইলিশ কমিউটার বাইক ভালো অপশন। আপনি TVS Raider-এর মতো শক্তিশালী পারফরম্যান্সযুক্ত বাইক কিনতে পারেন, যার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৩০০০ টাকা EMI দিতে হবে।
৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে একটু প্রিমিয়াম এবং ক্রুজার সেগমেন্টের দিকে এগোতে পারেন। বাজেট অনুযায়ী Royal Enfield (RE) Hunter একটি চমৎকার চয়েস হবে, যার মাসিক EMI আপনার পকেটে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা হবে।
মাসিক বেতন ১ লক্ টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে স্পোর্টস এবং সুপারবাইক সেগমেন্টের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। Kawasaki Vulcan S-এর মতো প্রিমিয়াম ক্রুজার বাইকের মালিক হতে পারেন, যার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা EMI দিতে হবে।