
জুলাই মাসে ভারতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি জুন মাসের ৪.৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বুধবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (Ministry of Statistics and Programme Implementation) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়িয়েছে।
কনজিউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্স (CFPI) অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি জুন মাসের ৫.৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইতে ৫.৫২ শতাংশ হয়েছে। গ্রামের দিকে খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫.৭৯ শতাংশ, আর শহরে এই হার ছিল ৫.০৫ শতাংশ।
কিছু জরুরি খাদ্যপণ্যের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। যেমন, পেঁয়াজের দামের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি জুন মাসের ৪.৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইতে ২২.৫৪ শতাংশ হয়েছে। আদার দামের ক্ষেত্রে এই হার ৫০.৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৩.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রসুনের দামের মুদ্রাস্ফীতি ১৭.৯৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.৩৬ শতাংশ হয়েছে।
তবে কিছু সবজির দাম কমার কারণে এই মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এই বছর আলুর দাম ১৬.৫৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া, ভেন্ডি ও মটরের দাম যথাক্রমে ৫.৫২ শতাংশ এবং ৫.২৭ শতাংশ কমেছে। টমেটোর দামও ৪.৫৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে জুন মাসে এর দাম ৩১.৯২ শতাংশ বেড়েছিল।
জুলাই মাসে খাদ্য ও পানীয় বিভাগে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫.২৪ শতাংশ এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে ৪.৪৩ শতাংশ। রেস্তোরাঁ এবং হোটেল পরিষেবার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৭২ শতাংশ। আবাসন খাতে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ২.২২ শতাংশ, যেখানে সামগ্রিক CPI মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪.৪৫ শতাংশ।
শহরের (৩.৯৬%) তুলনায় গ্রামের (৪.৮৪%) দিকে মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি ছিল। খাদ্যপণ্য ছাড়াও কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসের দামও বেশ বেড়েছে। জুলাই মাসে রুপোর গয়নার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০৯.৮৪ শতাংশে। সোনা, হীরা এবং প্ল্যাটিনামের গয়নার ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩২.৯৮ শতাংশ।
মাসিক ভিত্তিতে, সম্মিলিত CPI সূচক জুন মাসের ১০৭.০০ থেকে বেড়ে জুলাইতে ১০৭.৯৪ হয়েছে। জুলাই মাসের মুদ্রাস্ফীতির এই পরিসংখ্যানটি প্রাথমিক।
এই তথ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১,৪০৭টি শহুরে বাজার (অনলাইন বাজার সহ) এবং ১,৪৬৫টি গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই ১০০ শতাংশ সাড়া পাওয়া গেছে।