
India Fuel Export Tax: পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পেট্রল, ডিজেল এবং অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর রপ্তানির ওপর লাগু শুল্ক কমানো হবে। এই নতুন নিয়ম ১ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। যদিও এই বদল শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং দেশের সাধারণ মানুষের ওপর আপাতত এর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না, তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা একে ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে সরকার প্রথমবার পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানির ওপর বিশেষ অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্ক (SAED) এবং রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস (RIC) চালু করেছিল। সেই সময় পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়তে থাকায় অপরিশোধিত তেলের জোগান ও দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো যেন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকেই অগ্রাধিকার দেয় এবং অতিরিক্ত রপ্তানির ফলে দেশে জ্বালানির অভাব না হয়। এখন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং জোগান পর্যালোচনা করার পর সরকার শুল্কের কাঠামোয় এই বদল আনল।
১ জুন থেকে কার্যকর হতে চলা নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী:
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরো টাকাই বিশেষ অতিরিক্ত উৎপাদন শুল্ক বা SAED হিসেবে নেওয়া হবে। এর মধ্যে রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেসের কোনও আলাদা অংশ থাকবে না।
এই প্রশ্নটাই এখন সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে। আপাতত সরকার পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রল ও ডিজেলের ওপর উৎপাদন শুল্কের হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। এর মানে হল, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ভেতরে জ্বালানির দামে এখনই কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি পশ্চিম এশিয়ার সংকট আরও গভীর হয় বা বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় লাফ দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারকে আবার নতুন করে পর্যালোচনা করতে হতে পারে।
সরকারের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানি শুল্ক প্রতি ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনা করা হয়। এই সময়ে অপরিশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজেল এবং ATF-এর গড় আন্তর্জাতিক দাম বিশ্লেষণ করা হয়। সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শুল্ক বাড়ানো হবে, কমানো হবে, নাকি একই রাখা হবে। এই ব্যবস্থার ফলে সরকার বদলাতে থাকা বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
জ্বালানি বাজারের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা শুধুমাত্র করের হারে একটা বদল নয়, বরং এর একটা কৌশলগত বার্তাও রয়েছে। সরকার একদিকে যেমন তেল শোধনাগারগুলোকে রপ্তানির সুযোগ দিতে চাইছে, তেমনই অন্যদিকে দেশের ভেতরে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগানও নিশ্চিত রাখতে চাইছে। এখন সবার নজর পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহ এবং আগামী ১৫ দিন পরের পর্যালোচনার দিকে। যদি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে জ্বালানির বাজারে নতুন করে অস্থিরতা এবং ভারতের কর নীতিতে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আপাতত স্বস্তি থাকলেও, আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।