ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.২৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭৪.১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ এবং সোনার রিজার্ভের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের আবেদনের প্রভাব এবং এর পেছনের অর্থনৈতিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

India's Forex Reserve: ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.২৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭৪.১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে রিজার্ভ কমে গেলেও, এবার এতে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে। চলুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পর্কে আরও জেনে নেওয়া যাক এবং বোঝা যাক প্রধানমন্ত্রী মোদীর আবেদন কতটা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কী?

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হলো ডলার, ইউরো, পাউন্ড এবং ইয়েনের মতো বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, আইএমএফ স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস এবং আইএমএফ-এর কাছে থাকা রিজার্ভ পজিশনের আকারে আরবিআই-এর কাছে রাখা মূলধন। এই রিজার্ভ প্রয়োজনে রুপিকে সমর্থন জোগায়, আমদানির খরচ মেটাতে এবং যেকোনো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করে। যেকোনো দেশের জন্য শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই অঙ্কটি কীভাবে ৬৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাল?

এবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে, যা ৪.৫১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪৫.৫৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্বর্ণের রিজার্ভও ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১০৫.২১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এসডিআর এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে থাকা রিজার্ভ পজিশনেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে। এছাড়াও, এফসিএনআর ডিপোজিট এবং এক্সটার্নাল কমার্শিয়াল বরোয়িং-এর মাধ্যমে ডলারের প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী কী আবেদন করেছিলেন?

কয়েক মাস আগে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং ডলারের চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি তাদের যথাসম্ভব বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করতে, জ্বালানি সাশ্রয় করতে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে এবং অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। ভারত প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল এবং সোনা আমদানি করে, যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে। যদি দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমে যায় এবং সোনার চাহিদা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে ডলার সাশ্রয় হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ কমে যায়।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বানের কী প্রভাব পড়েছে?

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বানের পর মানুষ শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান বৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের কারণে হয়নি, বরং এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি আয়, ডলারের প্রবাহ এবং সোনার দামের পরিবর্তনের মতো বেশ কিছু প্রধান অর্থনৈতিক কারণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তা সত্ত্বেও, আমদানি হ্রাস এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সরকারের প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করেছে।