
KitKat: কিটক্য়াট খুব খাচ্ছে ভারত। একসময় জাপান কিংবা ব্রাজিলের মতো দেশগুলিকেই ধরা হত কিটক্যাটের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে। কিন্তু সময় বদলেছে। এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় কিটক্যাট বাজারের তকমা পেল ভারত। নেসলের জনপ্রিয় চকোলেট-কোটেড ওয়েফার ব্র্যান্ড কিটক্যাটের বিক্রিতে জাপান, ব্রাজিল-সহ ইউরোপের একাধিক দেশকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন, নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মণীশ তিওয়ারি। তাঁর কথায়, গত দু'তিন বছর ধরেই ভারত কিটক্যাটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার ছিল। তবে গত এক দশকে দেশের বাজারে যে গতিতে এই ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, তা নজরকাড়া। কারণ, মাত্র ১০ বছর আগেও কিটক্যাট বিক্রিতে ভারতের স্থান ছিল বিশ্বে দশম।
সংস্থার দাবি, শহর ও গ্রাম, দুই ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের মধ্যে কিটক্যাটের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু সাধারণ চকোলেট নয়, নতুন ধরনের পণ্য বাজারে আনার কৌশলও এই সাফল্যের পিছনে বড় কারণ। 'কিটক্যাট পপস' ও 'কিটক্যাট ডিলাইটস'-এর মতো নতুন পণ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি প্রিমিয়াম ও মূলধারার বাজার, দুই ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা কৌশল নিয়েছে নেসলে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতে প্রায় ৩৯৫ কোটি 'ফিঙ্গার' কিটক্যাট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে Nestle। শুধু বিক্রিই নয়, ভারতের চকোলেট বাজারে কিটক্যাটের অংশীদারিও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ফলে দেশের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া চকোলেট ব্র্যান্ডগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে এটি। নেসলের ক্ষেত্রে 'ম্যাগি'-র পর কিটক্যাটই দ্বিতীয় ব্র্যান্ড, যার সবচেয়ে বড় বাজার এখন ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিপুল তরুণ জনসংখ্যা, বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া খাদ্যাভ্যাস এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবা, আধুনিক রিটেল চ্যানেল এবং অনলাইন বাজারের বিস্তারও বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করেছে। বিশ্বের ৮৫টিরও বেশি দেশে বিক্রি হওয়া কিটক্যাটের জন্য ভারতের এই উত্থান শুধু একটি ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে FMCG সংস্থাগুলির কাছে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছে শিল্পমহল।