Modi Government Tax Changes: মোদী আমলে ১২ বছরে কতটা বদলে গিয়েছে আয়করের রূপ?
Modi Government Tax Changes গত ১২ বছরে মোদী সরকার আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে নতুন কর ব্যবস্থার প্রবর্তন, কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি, এবং ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট অন্যতম।

নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড
Modi Government Tax Changes: ১০ জুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর একটানা মেয়াদের ভিত্তিতে ভারতের দীর্ঘতম সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড স্থাপন করেন। গত ১২ বছরে, কেন্দ্রীয় সরকার আয়কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে, যা বেতনভোগী কর্মচারী, পেনশনভোগী, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের প্রভাবিত করেছে।

নতুন কর ব্যবস্থার প্রবর্তন
নতুন কর ব্যবস্থার প্রবর্তন থেকে শুরু করে ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট, বর্ধিত কর ছাড় এবং ডিজিটাল কর প্রশাসন পর্যন্ত... ২০১৪ সাল থেকে ভারতের আয়কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আসুন মোদী সরকারের ১২ বছরে আয়করে যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
নতুন কর ব্যবস্থার সূচনা
মোদী সরকারের অন্যতম বড় কর সংস্কার ছিল ২০২০ সালের বাজেটে নতুন কর ব্যবস্থার প্রবর্তন। এর মাধ্যমে করের হার কমানো হলেও, বেশিরভাগ ছাড় এবং কর্তনে ছাড় মিলেছে। করদাতাদের পুরোনো এবং নতুন কর ব্যবস্থার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে, সরকার ট্যাক্স রিবেট এবং স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়িয়ে নতুন ব্যবস্থাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ছয় দশকের পুরোনো আইনের পরিবর্তে আয়কর আইন
প্রধানমন্ত্রী মোদীর মেয়াদের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো নতুন আয়কর আইন, ২০২৫-এর বাস্তবায়ন, যা ১৯৬১ সালের আয়কর আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। এই নতুন আইনটি ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কর আইনকে সরল করা, আইনি জটিলতা কমানো এবং এর প্রতিপালন সহজ করা। নতুন আইনটি সেইসব বিধানকে সুসংহত করেছে যা কয়েক দশক ধরে সংশোধনের ফলে জটিল হয়ে পড়েছিল। এটিকে গত ছয় দশকের মধ্যে প্রত্যক্ষ কর আইনের সবচেয়ে বড় সংস্কার হিসেবে মনে করা হয়।
কর ছাড়ের পরিধি প্রসারিত
সরকার পর্যায়ক্রমে আয়কর আইনের ৮৭এ ধারার অধীনে উপলব্ধ কর ছাড় বাড়িয়েছে। ২০১৯ সালের বাজেটে, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ের ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ কর ছাড় পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের বাজেটে, নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে। এটি মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মুখোমুখি মূল্যায়ন (Facingless Assessment)
করদাতা এবং আয়কর কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমাতে, সরকার মুখোমুখি মূল্যায়ন এবং মুখোমুখি আপিল ব্যবস্থা চালু করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা, হয়রানির অভিযোগ কমানো এবং কর প্রশাসনকে আরও প্রযুক্তি-চালিত করা।
আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সহজতর হয়েছে
আয়কর বিভাগ আগে থেকে পূরণ করা রিটার্ন ফর্ম চালু করেছে, যা আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করা আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বেতন, সুদ থেকে আয়, লভ্যাংশ থেকে আয় এবং টিডিএস (TDS)-এর মতো তথ্য এখন অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যায়, ফলে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়।
আইটিআর-ইউ (ITR-U) সুবিধা
সরকার আপডেট করা রিটার্ন (ITR-U) ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল করার পরে করা ভুল সংশোধন করতে বা অনুপস্থিত আয় সম্পর্কে জানাতে সাহায্য করে। এটি তদন্ত নোটিশের জন্য অপেক্ষা না করে কর পরিপালন উন্নত করার একটি সুযোগ প্রদান করে। সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বর্ষের শেষ থেকে চার বছর পর্যন্ত আইটিআর-ইউ দাখিল করা যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের জন্য আইটিআর-ইউ (ITR-U) দাখিল করার শেষ তারিখ হবে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ, ২০৩০ পর্যন্ত।
স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি
বেতনভোগী কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ২০১৮ সালে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে, নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে ৭৫,০০০ টাকা এবং পুরোনো কর ব্যবস্থার অধীনে ৫০,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন পাওয়া যায়। কর গণনার আগে এই পরিমাণ অর্থ বেতন আয় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয় এবং খরচের কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
উচ্চ-মূল্যের লেনদেনের উপর কঠোর নজরদারি
কর ফাঁকি রোধ করতে এবং নিয়ম মেনে চলার হার বাড়াতে, সরকার উচ্চ-মূল্যের আর্থিক লেনদেনের জন্য রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়কর বিভাগে নির্দিষ্ট লেনদেন সম্পর্কে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিডিএস এবং টিসিএস নিয়মে পরিবর্তন
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, সরকার ই-কমার্স, বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং বড় ব্যবসায়িক পেমেন্টের মতো বিভিন্ন লেনদেনের উপর নতুন টিডিএস এবং টিসিএস বিধান কার্যকর করেছে। এগুলির লক্ষ্য ছিল কর ভিত্তি প্রসারিত করা এবং রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে
আয়কর বিভাগ রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণ এবং কর রিফান্ডের গতি বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি এবং অটোমেশনের ব্যাপক ব্যবহার করেছে। অনেক করদাতা এখন তাদের রিটার্ন দাখিল করার কয়েক দিনের মধ্যেই রিফান্ড পেয়ে যান, যা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত।
ডিজিটাল কর প্রশাসনের প্রসার
মোদি সরকারের আমলে, নোটিশ, অ্যাসেসমেন্ট, রিফান্ড এবং করদাতা পরিষেবার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করা হয়েছিল। বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS) এবং করদাতা তথ্য সারাংশ (TIS)-এর মতো ডিজিটাল সরঞ্জাম চালু করা হয়েছিল, যা করদাতাদের তাদের আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

