Second Hand Mobile Business নতুন ফোন কেনার চেয়ে এখন অনেকেই ভালো কন্ডিশনের পুরনো ফোন কিনতে বেশি পছন্দ করছেন। চলুন দেখে নিই, এই ব্যবসায় আসলে কতটা লাভ রয়েছে।
Second Hand Mobile Business: নতুন স্মার্টফোন কিনতে গেলে পকেট থেকে হাজার হাজার টাকা বেরিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন কম দামে ভালো ফিচারের পুরনো মোবাইল খুঁজছেন। সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের এই বিপুল চাহিদাই কেনাবেচার নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। অল্প পুঁজিতে শুরু করা এই ব্যবসায় আসলে কতটা লাভ থাকে? কোন ফোনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি? এই ব্যবসায় নামার আগে কী কী সতর্কতা নেওয়া জরুরি? আসুন, সেই বিষয়গুলোই জেনে নিই।
26
পুরনো ফোনের চাহিদা কেন বাড়ছে?
সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইলের চাহিদা বাড়ার মূল কারণ হলো এর দাম। একটা নতুন ফোন কিনতে যেখানে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে একই ফিচারের পুরনো মডেল অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী এবং যাদের বাজেট কম, তারা এই বাজারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
অন্যদিকে, নতুন ফোন কেনার সময় অনেকেই পুরনো ফোন বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করেন। এর ফলেও সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে ফোনের জোগান বাড়ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে রিফার্বিশড স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। নতুন ফোনের দাম বৃদ্ধি এবং কম দামে প্রিমিয়াম ফোন ব্যবহারের ইচ্ছাই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
36
কোন ফোনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
সেকেন্ড হ্যান্ড বাজারে সব ফোনের চাহিদা কিন্তু সমান থাকে না। ক্রেতারা সাধারণত ভালো ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, সুন্দর ডিজাইন এবং সফটওয়্যার আপডেটের ওপর ভিত্তি করে ফোন কেনেন। বিশেষ করে অ্যাপল আইফোনের পুরনো মডেল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম সিরিজের ফোনের বাজারে দারুণ চাহিদা রয়েছে। যারা এই ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের আগে বুঝতে হবে স্থানীয় বাজারে কোন ব্র্যান্ড এবং কোন দামের ফোন বেশি বিক্রি হয়। কম দামের বাজেট ফোনের পাশাপাশি ভালো কন্ডিশনের প্রিমিয়াম মডেলগুলোও আপনারা নজরে রাখতে পারেন।
এই ব্যবসা শুরু করার জন্য বড় কোনো শোরুমের দরকার নেই। সামান্য পুঁজি নিয়ে বাড়ি থেকে বা ছোট একটা দোকান ভাড়া করেও কাজ শুরু করতে পারেন। যারা পুরনো ফোন বিক্রি করতে চান তাদের থেকে সরাসরি কেনা, এক্সচেঞ্জের ফোন সংগ্রহ করা এবং বিশ্বস্ত সাপ্লায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্টক বাড়াতে পারেন। তবে বিক্রির আগে প্রতিটি ফোন খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
ফোনের ব্যাটারি, ডিসপ্লে, টাচ, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট, নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের মতো ফিচারগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা দেখে নিতে হবে। ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই করাও বাধ্যতামূলক। বিক্রির আগে ফোনের পুরনো ডেটা পুরোপুরি মুছে ফেলতে ভুলবেন না।
56
এই ব্যবসায় লাভ কেমন?
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের ব্যবসায় লাভের মূল মন্ত্র হলো কম দামে ফোন কেনা, সেটির কন্ডিশন ভালো করা এবং সঠিক দামে বিক্রি করা। ধরুন, আপনি ৮,০০০ টাকা দিয়ে একটি ফোন কিনলেন। এরপর ছোটখাটো মেরামত ও পরিষ্কার করতে আরও ১,০০০ টাকা খরচ হলো। অর্থাৎ মোট খরচ দাঁড়াল ৯,০০০ টাকা। এবার সেই ফোনটি ১০,০০০ টাকায় বিক্রি করলে আপনার ১,০০০ টাকা লাভ থাকবে। তবে লাভের অঙ্কটা নির্ভর করে ফোনের মডেল, বাজারদর, ব্যাটারির অবস্থা, মেরামতের খরচ এবং ফোনটি বিক্রি হতে কত সময় লাগছে তার ওপর।
সাধারণ দোকানের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটপ্লেস এবং স্থানীয় কেনাবেচার গ্রুপেও পুরনো ফোন বিক্রি করতে পারেন। ফোনের আসল ছবি, সঠিক বিবরণ, ব্যাটারির অবস্থা এবং ওয়ারেন্টির কথা সততার সঙ্গে জানালে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করা সহজ হয়।
66
ব্যবসায় কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
এই ব্যবসায় লাভের সুযোগ যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও কিন্তু কম নয়। অনেক সময় পুরনো মোবাইল বাইরে থেকে দেখতে ভালো লাগলেও ভেতরে প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই কেনার আগে ডিসপ্লে, টাচস্ক্রিন, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট, ব্যাটারি এবং নেটওয়ার্ক ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। নতুন ফোনের দাম কমে যাওয়া, পুরনো মডেলে সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার মতো বিষয়গুলোও ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত বিক্রি হয় এমন মডেলগুলো চিনে রাখা, কেনার দাম সাবধানে ঠিক করা এবং প্রতিটি লেনদেনের হিসাব রাখা খুবই জরুরি।
Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.