
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ এখন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। প্রথমে ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের ৩০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালায়। এখন ইজরায়েল সহ সাতটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে ইরান। তার মধ্যে রয়েছে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি। এসব জায়গায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট করছে। লেবাননের মতো দেশ এবং হুথিরাও ইরানের পক্ষে আক্রমণ করছে। এখন সাত থেকে আটটি দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্বে ভয়ের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তবে, এই আক্রমণ কত দীর্ঘ এবং তীব্র হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। একইভাবে, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরাও শঙ্কিত।
অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি
এই যুদ্ধকে ভারত সহ বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের ভীত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই আক্রমণ নিশ্চিতভাবেই অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি ঘটাবে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে। ভারত সহ অনেক দেশ হরমুজ প্রণালী থেকে তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলটি বন্ধ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৭৮% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৭.০২ ডলারে বন্ধ হয়েছে। সোমবার পণ্য বাজার খুললে তা আরও বাড়বে।
যুদ্ধ এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভারত সহ বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজার সোমবার তীব্র পতন দেখতে পারে। এই পতনের পরিমাণ বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং বিক্রির উপর নির্ভর করবে। শুক্রবারই ভারতীয় বাজারে এর লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, যখন ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কোনও অর্থবহ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই মনোভাবের কারণে, সেনসেক্স ৯৬১ পয়েন্ট বা ১.১৭% কমে বন্ধ হয়ে যায় এবং নিফটি ৩১৭ পয়েন্ট বা ১.২৫% কমে বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা এখন সোমবারের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।
সোনা ও রুপোর উপর এর প্রভাব কী হবে?
যখনই বিশ্বে যুদ্ধ বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই সোনা, রুপো এবং তামার মতো নিরাপদ সম্পদের দাম বেড়ে যায়। এই বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের ফলে আবারও সোনা ও রুপোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে পণ্য বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৬১,৯৭১ টাকা এবং রুপোর দাম ২,৭৪,৩৮৯ টাকা।