UDAN Scheme: ভারতে এক সময় এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, বিমান ভ্রমণ শুধুমাত্র বিত্তবানদের জন্যই। কিন্তু এখন এই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১১,২০০ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ে নির্মিত নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রথম পর্বের উদ্বোধন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে একটি রিমোটের বোতাম টিপে এই মেগা প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয়। এটি শুধু একটি বিমানবন্দরের উদ্বোধন নয়, বরং দেশের বিমান চলাচল খাতে এক নতুন যুগের সূচনা। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, রানওয়ে শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়; এগুলো সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতিকে চালিত করে।
জেওয়ার বিমানবন্দরের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জন্যও বিমান ভ্রমণকে সহজলভ্য করা। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার উড়ান প্রকল্প (উড়ান ২.০) চালু করেছে। পরিসংখ্যান এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী। ২০১৪ সালের আগে ভারতজুড়ে মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দর চালু ছিল, কিন্তু আজ এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৬০ ছাড়িয়েছে। যে ফ্লাইটগুলো একসময় শুধু মহানগরগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলো এখন দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতেও পৌঁছাচ্ছে।
সরকারের উচ্চাভিলাষী "উড়ান" (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) প্রকল্প এই ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬.২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন এবং ৬৬৩টি রুটে ফ্লাইটগুলি নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার এর একটি উন্নত সংস্করণ, "উড়ান ২.০" অনুমোদন করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের সম্প্রসারণের জন্য ২৮,৮৪০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে, যা আগামী ১০ বছরে (২০৩৫-৩৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত) ব্যয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে, দেশজুড়ে পুরোনো এবং অব্যবহৃত বিমানঘাঁটিগুলোকে পুনর্নির্মাণ করে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। এছাড়াও, ২০০টি আধুনিক হেলিপ্যাডও নির্মাণ করা হবে। এর সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ সুবিধা পাবে পার্বত্য অঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং দ্বীপ অঞ্চলগুলো, যেখানে সড়ক বা রেলপথে যাতায়াত এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, দেশজুড়ে নতুন বিমানবন্দর তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো দ্রুত নতুন বিমানের জন্য বড় আকারের অর্ডার দিচ্ছে। বিমানের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে পাইলট থেকে শুরু করে কেবিন ক্রু এবং বিমানবন্দর পরিচালনা পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
উড়ান ২.০ "মেড ইন ইন্ডিয়া" উদ্যোগকেও গতি দেবে। আঞ্চলিক ফ্লাইটের জন্য দেশীয় বিমান ক্রয়কে উৎসাহিত করতে ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর অধীনে, দেশের মধ্যে ছোট বিমানের ঘাটতি মেটাতে পবনহংসের জন্য হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্সের ধ্রুব হেলিকপ্টার এবং অ্যালায়েন্স এয়ারের জন্য ডর্নিয়ার বিমান কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিমান সংযোগ শুধু ভ্রমণকে সহজ ও দ্রুততরই করে না, বরং এটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলোতে ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবেও কাজ করে। এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দেবে।
এই ছোট রুটগুলোতে বিমান সংস্থাগুলোকে পরিষেবা প্রদানে উৎসাহিত করতে, সরকার ১০ বছরে ১০,০৪৩ কোটি টাকার ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (ভিজিএফ) প্রদান করবে। বিমানবন্দর এবং হেলিপ্যাডগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই পরিকল্পনাটি ভারতের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী করে তুলতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে 'উন্নত ভারত'-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।