Gold Price: মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে সোনার দাম এত কমছে কেন? ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে?

Published : Mar 25, 2026, 10:46 AM IST

যুদ্ধ বা সঙ্কটের সময় সোনার দাম বাড়াই দস্তুর। কিন্তু ইতিহাসে প্রথমবার, ইরান সংঘাতের আবহে সোনার দাম উল্টে অনেকটাই কমে গিয়েছে। কেন এমনটা হচ্ছে, রইল তার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ।

PREV
113
যুদ্ধ চললেও সোনার দাম কমছে কেন?

যুদ্ধ বা অন্য কোনও বড় সঙ্কটে শেয়ার বাজার পড়ে আর সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার সোনার দামও পড়েছে! বিশ্বের যে কোনও দেশে সংঘাত শুরু হলে তার আঁচ এসে পড়ে সোনা-রুপোর বাজারে। যুদ্ধ মানেই সোনা-রুপোর দাম বাড়বে, এটাই সবাই জানে। কিন্তু ইতিহাসে প্রথমবার এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দাম কমেছে। বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয় বলে পরিচিত সোনার এই পতনের কারণ কী? এখন পরিস্থিতি কেমন, রইল তার সম্পূর্ণ তথ্য।

213
যুদ্ধের আবহে দাম কমার ঘটনা এটাই প্রথম

ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে ৪ সপ্তাহ হল। সবাই ভেবেছিল সোনা-রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হবে। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দাম কমেছে। যুদ্ধের সময় দাম কমার ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম। ইরান সংঘাতের কারণে এখনও পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ১৮% কমেছে। যুদ্ধ শুরুর দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি, সোনা ও রুপোর দাম সেই মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। ২৪ ক্যারেট ১ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১৬,৮৭১ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের দাম ছিল ১৫,৪৬৫ টাকা। 

313
যুদ্ধের আবহে দাম কমার ঘটনা এটাই প্রথম

কিন্তু ২৫ দিনের মধ্যে প্রতি গ্রামে দাম প্রায় ২৫০০-৩০০০ টাকা কমেছে। ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১৪,২৯১ টাকায় এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১৩,১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এদিকে, এই বছর জুড়ে প্রতি কেজিতে ৩ লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করা রুপোর দামও কমেছে। যুদ্ধের শুরুতে যা ২.৯৫ লক্ষ টাকা ছিল, তা এখন প্রায় ৬০ হাজার টাকা কমে ২.৩৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। যদিও এই দামেও ওঠানামা চলছে।

413
চার দশকে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতন

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪৩ বছরে, অর্থাৎ ১৯৮৩ সালের পর, এক সপ্তাহে সোনার দাম এতটা কমলো এই প্রথম। মাত্র ৭ দিনেই দাম প্রায় ১১% পড়েছে। এর আগে ১৯৭৯-১৯৮০ সালের ইরান বিপ্লবের সময় তেলের জোগানে বাধা এবং ঠান্ডা যুদ্ধের কারণে সোনার দাম ১৫-২০% কমেছিল। তারপর থেকে এক সপ্তাহে দাম ১০% এর বেশি কমার কোনও নজির নেই। 

513
আগের যুদ্ধগুলিতে সোনার দাম কেমন ছিল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: এই সময় সোনার দাম ছিল প্রতি আউন্স মাত্র ২০.৬৭ আমেরিকান ডলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ১৯৩৪ সালে প্রতি আউন্সের দাম ছিল ৩৫ ডলার। তখন সাধারণ মানুষের সোনা কেনার উপর সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধ: যুদ্ধের ভয়ে সোনা কেনার চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে ১৯৬৮ সালের মধ্যে দাম বেড়ে ৪০.২০ ডলারে পৌঁছয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় দাম প্রায় ৫ গুণ বেড়ে গিয়েছিল।

613
উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সোনার দাম কত ছিল?
উপসাগরীয় যুদ্ধ: সেই সময় ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় সোনার দাম হু হু করে বেড়েছিল। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৩৮৪ ডলার, যা এক মাসের মধ্যে ৪০৩ ডলারে পৌঁছয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিন ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রায় ৫১০০-৫১৫০ টাকা। ১০ দিনের মধ্যে তা বেড়ে ৫২৫০-৫৩০০ টাকা হয়। মোট দাম প্রায় ১৫% বেড়েছিল। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ: ২০২৩ সালের অক্টোবরে এই যুদ্ধ শুরু হলে সোনার দাম প্রায় ১০% বাড়ে। ১০ গ্রাম শুদ্ধ সোনার দাম যা ৫৮ হাজার টাকার আশেপাশে ছিল, তা বেড়ে ৭৫,০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
713
সংঘর্ষের মধ্যেও দাম কমার কারণ কী?

১. ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যের পতন: মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের কারণে ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে ৯৪-এর কাছাকাছি চলে এসেছে। এটাকেও দাম কমার একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ডলার সূচক শক্তিশালী হয়েছে। তাই যুদ্ধের সময় বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে ডলারকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক ও বিনিয়োগ সংস্থাগুলো ডলারে বিনিয়োগ করছে। এর প্রভাব পড়ছে সোনার উপর। 

813
সংঘর্ষের মধ্যেও দাম কমার কারণ কী?

২. আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান: অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে রাজি নয়। সুদের হার বাড়লে গ্রাহকরা সোনার বদলে সুদ প্রদানকারী সরকারি বন্ডের দিকে আকৃষ্ট হন। আমেরিকার ক্রেডিট এতটাই শক্তিশালী যে, তার সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করাকে সোনার মতোই নিরাপদ বলে মনে করা হয়। ফলে, বিনিয়োগকারীরা ০% সুদের হারের সোনা বিক্রি করে সেই টাকা আমেরিকার বন্ডে বিনিয়োগ করে লাভ করছেন।

913
বাজারে অস্থিরতা এবং নগদের জোগান

বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা লাভ করতে বা লোকসান সামলাতে সোনা বিক্রি করে টাকা তুলে নেন। এর ফলে বাজারে সোনার জোগান বেড়ে যায় এবং দাম কমে। যুদ্ধ শুরুর দিনগুলিতে দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। তখন বিনিয়োগকারীরা বেশি পরিমাণে সোনা কেনায় চাহিদা বাড়ে এবং জোগানে ঘাটতি দেখা দেয়। দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছনোর পর তাঁরা লাভ ঘরে তুলতে সোনা বিক্রি করতে শুরু করেন। 

1013
বিদেশেও একই পরিস্থিতি

বিদেশেও সোনা ও রুপোর দাম কমেছে। ইউরোপে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে সোনার দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে। ব্রিটেন, চিন, জাপান, দুবাইতেও কমবেশি একই পরিস্থিতি। বিনিয়োগকারীরা সোনাকে 'সেফ হেভেন' বা নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করেন। কিন্তু এখনকার এই দরপতন তাঁদের চিন্তায় ফেলেছে। সাধারণত যুদ্ধ বা বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগ বাড়ে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ভবিষ্যতে কী হতে পারে? এই বছরের শুরুতে দাম ২৫-৩০% বেড়েছিল। 

1113
দাম কমার কারণ কী?

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ২৪ ক্যারেট ১ গ্রাম সোনার দাম ছিল ৭৮০০ টাকা। এই বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১৩,৫০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি। কিন্তু এখন দাম কমছে। যুদ্ধ আরও বাড়লে দাম আবার বাড়তে পারে। তবে ডলার যদি এভাবেই শক্তিশালী থাকে এবং ফেড সুদের হারে পরিবর্তন আনে, তাহলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। 

1213
দাম কমার কারণ কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম প্রতি গ্রাম ১০,০০০ টাকা হতে পারে, অর্থাৎ ১০ গ্রামের দাম এক লক্ষের নিচে নামতে পারে। তবে দাম এতটা কমার সম্ভাবনা বেশ কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতন স্থায়ী নয়, সাময়িক। দাম খুব বেশি বেড়ে গেলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এমন ঘটনা ঘটেই থাকে।

1313
দাম কমার কারণ কী?

প্রফিট বুকিংও দাম কমার একটি কারণ: গত এক বছরে সোনা ও রুপো অসাধারণ লাভ দিয়েছে। দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলে বিনিয়োগকারীরা লাভ নিশ্চিত করতে বিক্রি শুরু করেন, যা দাম কমার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Business News in Bengali (ব্যবসার খবর): Get latest Business news highlights and live updates about stock market news & Updates, Personal finance tips, Indian economy & Budget News Updates at Asianet News Bangla.
Read more Photos on
click me!

Recommended Stories