
পত্রলেখা বসু চন্দ্র,কাটোয়া-করোনা আবহে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিয়ে ভুরিভুরি অভিযোগ। জরুরি পরিষেবা দিতে কোথাও লাগামছাড়া টাকার দাবি। আবার কোথাও, অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে মাঝ রাস্তায় রোগীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অ্যাম্বল্যান্স চালকের বিরুদ্ধে। আবার কোথাও অ্যাম্বুল্যান্স চালকের হাত হামলার শিকার হয়েছেন রোগীর পরিবার। করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এই অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু, এমন পরিস্থিতিতেও মানবিকতার নজির মিলল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। কিংশুক মণ্ডল নামে কাটোয়া শহরের এক অ্যাম্বুল্যান্স চালক কার্যত বিনামূল্যে এই জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন। দিন হোক বা রাত শুধু একটা ফোন। মুহূর্তের মধ্য়ে অ্য়াম্বুল্যান্স নিয়ে হাজির হয়ে যান কিংশুক।
কাটোয়ার শহরবাসীরা জানান, গত একবছর ধরে বিনামূল্যে এই জরুরি পরিষেবা দিচ্ছেন পেশায় অ্য়াম্বুল্যান্স চালক কিংশুক মণ্ডল। তাঁর তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স আছে। একটি নিজেই চালান। বাকি দুটি অ্যাম্বুল্যান্সে মাসিক বেতন দিয়ে চালক রেখেছেন। শহরের কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হলে একটি ফোনেই সাহায্য মেলে কিংশুকের। রোগীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে কোনও টাকা তিনি নেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর পাওয়া উপকৃত ব্যক্তিরা। শুধু তাই নয়, কাটোয়া শহর থেকে দূরে হলেও পিছিয়ে আসে না কিংশুক। অ্যাম্বুল্যান্সের সামান্য তেল খরচের টাকাতেই জরুরি পরিষেবা দিয়ে থাকেন কিংশুক মণ্ডল।
কিংশুক মণ্ডল একবছর ধরে লাগাতার এই পরিষেবা দিয়ে থাকলেও করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতেও তাঁর পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। যেখানে করোনার আতঙ্কে অনেক অ্যাম্বুল্যান্স চালক চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে রাজি হন না। সেখানে কিংশুক বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসি মুখেই। আগামী দিনে মানুষের পাশে এভাবেই থাকবেন বলে নিজেই জানালেন কিংশুক।
আপদকালীন পরিষেবায় সাতদিন, ২৪ ঘণ্টা কাজ করে কিংশুকের তিনটি অ্য়াম্বুল্যান্স। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যখন ভুরিভুরি অভিযোগ তখন নিজস্ব উদ্যোগেই সাধারণ মানুষকে জরুরি পরিষেবা দিয়ে চলেছেন কিংশুক। তাঁর উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন কাটোয়া শহরবাসী।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.